নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্ৰামে মাগুর ও শিঙি মাছের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য দপ্তর একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। মাছ চাষে প্রশিক্ষণ, কম সুদে ঋণের সাথে নানা সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাছ চাষে উৎসাহ দেওয়ার জন্য গত বছর থেকে রাজ্য সরকার ‘মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড’ চালু করেছে। মৎস্যজীবীরা মাত্র ৪শতাংশ সুদের ঋণ পাচ্ছেন। এই প্রকল্পে সর্বাধিক দু’লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
Advertisement
ঝাড়গ্রাম জেলায় সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১০৯০হেক্টর পুকুর, ৪৩০হেক্টর খাল ও বিল এলাকা রয়েছে। জেলার ৮৫০হেক্টর জলাশয়ে মাছ চাষ শুরু হয়েছে। ঝাড়গ্রাম, বিনপুর-১, গোপীবল্লভপুর-১ ও ২, সাঁকরাইল ব্লকে বেশি মাছ চাষ হয়। গত বছর জেলার ১১ধরনের স্কিম চালু হয়েছে। পুষ্টিগুণের নিরিখে উচ্চতর প্রোটিনযুক্ত দেশি মাগুর ও শিঙি মাছ চাষে জোর দেওয়া হয়েছে। দেশি মাছ চাষের জন্য মৎস্যজীবীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। মৎস্য দপ্তর সূত্রে খবর, ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে জেলায় ৫৫টি ফিশ প্রডাকশন গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। স্বরোজগার বাড়ানোর জন্য পুষ্টির ভারসাম্য রাখার প্রকল্পে শিঙি ও মাগুর চাষে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে দেশি মাগুরও। শিঙ্গি মাছচাষে ২ ও ৩ফুট জল থাকা দরকার। বছরের সবসময়ই শিঙি ও মাগুরের চাষ করা যায়। ঝাড়গ্রামে গরমকালে অনেক পুকুরে জলস্তর কমে যায়। গরমকালেও এই মাছ চাষ করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয় না। বর্ষার শুরুতেই ছাড়া মাছ পাঁচ মাসের মধ্যেই বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। মৎস্য দপ্তরের আর এক আধিকারিক বলেন, জেলার আটটি ব্লকে দেশি মাছ চাষ হচ্ছে। বিঘা প্রতি মাছ চাষে ৪০ থেকে ৫০হাজার টাকা লাভ হয়। তবে মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করলে লাভের পরিমাণ বেশি হয়। তিন মাস অন্তর এই মাছ চাষ করলে উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হয়। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, জেলার অনেক এলাকায় সারা বছর পুকুরে পর্যাপ্ত জল থাকে না। জলস্তর অল্প থাকলেও এই মাছ চাষ করা যায়। গবেষকদের মতে, হাইব্রিড মাগুর স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। দেশি শিঙ্গি ও মাগুর মাছের উপকারিতা অনেক বেশি। মাগুর মাছে প্রোটিন, ক্যালোরি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস অধিক পরিমাণে থাকে। এই মাস সহজপাচ্য হওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের পক্ষে খুব উপকারী। জেলার মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক শঙ্খ চক্রবর্তী বলেন, ঝাড়গ্রাম জেলায় দেশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশি শিঙি ও মাগুর মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্লক ও পঞ্চায়েত দপ্তরের নজরদারির মধ্যে কাজ চলছে।



