নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভুয়ো চালানে ঝাড়খণ্ডের বালি বাংলায় পাচার করা হচ্ছে। যার ফলে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছিল রাজ্যের। আর মোটা টাকা মুনাফা লুট করছিল অবৈধ কারবারিরা। বিষয়টি নজরে আসতেই তদন্তে নামে পুলিশ। রবিবার বারাবনি থানার রুনাকুড়া ঘাটে নাকা চেকিং শুরু হয়। ঝাড়খণ্ডের নলা হয়ে ওই বালি বোঝাই লরিটি বাংলায় ঢোকে। চালানে উল্লেখ ছিল বিহারের নালন্দা এলাকার স্টক পয়েন্ট থেকে বালি তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কলকাতায়। গাড়িতে লাগানো ছিল জিপিএস সিস্টেম। তা পুলিশ চেক করতেই দেখা যায়, বিহার নয়, লরিটি ঝাড়খণ্ডের নলা এলাকা থেকে বালি লোড করে কলকাতা অভিমুখে যাচ্ছে। তারপরেই তদন্তকারীরা দেখেন সম্পূর্ণ চালানটিই নকল। লরিটিকে বাজেয়াপ্ত করে চালক ও খালাসিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনা ঘটার পরই দুই রাজ্যে সীমান্তের ঝাড়খণ্ডের দিকে থাকা বালির গাড়িগুলি দাঁড়িয়ে পড়ে। পড়শি রাজ্যে বালির গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে যায়।
পুলিশ কমিশনার প্রণবকুমার বলেন, নকল চালানে বালি কারবারের অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপরই দেখা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড প্রান্তে বিপুল বালির গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়েছে। আমরা বার্তা দিয়েছি, বৈধ কাগজ থাকলে ভিনরাজ্য থেকেও বালি আসতে পারে। কিন্তু কোনো অবৈধ কারবার বরদাস্থ করা হবে না।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই বালির দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়। এখন ১০০ সিএফটি বালির দাম সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা পড়ছে। বর্ষায় বালির অভাবে নির্মাণকার্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নদী থেকে বালি তোলাও নিষিদ্ধ হয়েছে। এই অবস্থায় বাংলার বালির বাজারে বিপুল মুনাফা করতে পড়শি রাজ্য থেকে বালি অবৈধ উপায়ে আনা হচ্ছে বলে শিল্পাঞ্চলে অভিযোগ উঠেছিল। এর জেরে রাজ্যের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। কারণ বাংলার স্টক ইয়ার্ড থেকে বালির কারাবার হলে তা থেকে রাজ্য রাজস্ব পাবে।
অভিযোগ, প্রভাবশালীদের মদতেই ভিনরাজ্যের বালিও ভুয়ো চালানে বাংলায় ছড়িয়ে পড়ছে। এবার পুলিশি অভিযানেও তা স্পষ্ট হল। এই চোরাই কারবার ছাড়াও অভিযোগ উঠছে, রাতের অন্ধকারে নদীর বিভিন্ন বালি ঘাট থেকে বালি তোলা হচ্ছে। কাঁকসা থানার একাধিক বালি ঘাটের পাশাপাশি দুর্গাপুরের ওয়ারিয়া বালি ঘাট, বারাবানি, ফরিদপুর থানা এলাকার বালি ঘাটগুলির উপর নজরদারি বাড়াচ্ছে পুলিশ।