নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে আছে শালবনের জঙ্গল। বন্য পশুপাখিদের বিচরণ জঙ্গলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বন্যপ্রাণীদের দেখতে পর্যটকরা জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে ছুটে আসছেন। পর্যটক আসার পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে জুওলজিক্যাল পার্ক ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বিপুল ভিড় সামাল দিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, জুলজিক্যাল পার্কে দিনদিন পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। পর্যটক টানতে নানা ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দিনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে জুলজিক্যাল পার্ক ঢেলে সাজানো হচ্ছে। পার্কের আকর্ষণ বাড়াতে নতুন বন্য পশুপাখিদের নিয়ে আসা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের খয়রাপাড়া রেসকিউ কেন্দ্র থেকে এপ্রিল মাসে পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ ‘পলাশ’কে আনা হয়েছে। বাঁকুড়া থেকে উদ্ধার করে আনা পূর্ণবয়স্ক ভাল্লুক ‘বল্লু’ পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সদ্য এসেছে লেপার্ড ক্যাট, গ্ৰে প্যারোট। এনক্লোজারের ভিতর ময়ূর পেখম মেলছে। এখানে ১৬টি আলাদা প্রজাতির ১৮৭টি স্তন্যপায়ী, ১২টি আলাদা প্রজাতির ১৫৩টি সরীসৃপ, ১৮টি আলাদা প্রজাতির পাখি রয়েছে। ঝাড়গ্রাম শহর লাগোয়া ধবনী বিটের শালবনের জঙ্গলের ভিতর পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। বন্য পশুপাখিদের কলরব ও শালবনের ভিতর দিয়ে হাঁটলে পর্যটকরা জঙ্গলে ঘোরার অনুভূতি পান। তাই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা জুলজিক্যাল পার্ক এখন পর্যটকদের নয়া ভ্রমণ ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৭২৫জন পর্যটক এসেছেন। সেখানে ছোট ছেলেমেয়েদের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৩৫জন। তথ্য অনুযায়ী, শুধু ডিসেম্বর মাসেই জুলজিক্যাল পার্কে ৪৩ হাজার ৭৬৭জন পর্যটক আসেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৯৯৮জন। এবছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রতিমাসে পার্কে যে পর্যটক এসেছেন, ২০২৪ সালের তুলনায় সেই সংখ্যা দ্বিগুণ। ফলে, জুলজিক্যাল পার্কের আয় হয়েছে প্রায় ৫৩ লক্ষ টাকা। পর্যটক আসার সংখ্যা ও আয়ের ক্ষেত্রে আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। এনিয়ে জুওলজিক্যাল কর্তৃপক্ষ উচ্ছ্বসিত। যদিও এই সাফল্য সহজে আসেনি বলেই মত ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের আধিকারিকদের। তাঁদের দাবি, গত কয়েক বছরে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্য পশুপাখিদের বসবাসের উপযোগী করে পার্কটিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। নতুন বন্য পশুপাখিদের পার্কে আনা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য পার্কের ভিতরে বসার জায়গা ও শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনলাইন টিকিট চালু করা হয়েছে। পর্যটকরা সেখানে জেলার নিজস্ব হস্তশিল্পের জিনিসপত্র কিনতে পারছেন। পার্কের ভিতরে খাবারের স্টল রয়েছে। পার্কের ভিতরে অরণ্যের মাঝে একান্তে সময় কাটানোর অনুভূতি জঙ্গলমহল জুওলজিক্যাল পার্ককে অন্যান্য চিড়িয়াখানা থেকে আলাদা করে দিয়েছে।