নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: প্রকৃতিতে বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে। জঙ্গল, পাহাড়ের পাদদেশ জুড়ে সোহাগে ফুটেছে লাল পলাশ। বসন্ত উৎসবে ঝাড়গ্রাম আসা পর্যটকদের কাছে সেটা বরাবর আকর্ষণ। ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কে আনা চিতাবাঘ এবার পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে। জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের রেসকিউ সেন্টার থেকে চিতাবাঘ ‘পলাশ’কে আনা হয়েছে। তাই স্ত্রী চিতা হর্ষিণী পেতে চলেছে তার নতুন প্রণয়-সঙ্গী। পাশাপাশি বনবিভাগের তরফে ১৪ সিটের ই-কার্ট চালু হচ্ছে। এর ফলে বয়স্ক ব্যক্তিরা সহজে এবার চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখতে পারবেন।
ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের খয়রাপাড়া রেসকিউ সেন্টার থেকে পূর্ণ বয়স্ক চিতাবাঘটিকে আনা হয়েছে। হর্ষিণী ছাড়াও পূর্ণ বয়স্ক হয়নি একটি পুরুষ ও চিতাবাঘ এখানে রয়েছে। প্রজননের জন্য পুরুষ চিতার অভাব ছিল। সেই অভাব এতদিনে মিটতে চলছে। পর্যটকদের দেখার জন্য এক সপ্তাহের মধ্যেই এনক্লোজারে ‘পলাশ’কে এনে রাখা হবে। চিতাবাঘটি অনেকটা পথ অতিক্রম করে আসায় আগামী দু’দিন নাইট শেল্টারে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সপ্তাহ খানেক নজরদারির পর চিড়িয়াখানায় থাকা অন্যান্য চিতাবাঘের সঙ্গে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে উত্তরবঙ্গ থেকে হর্ষিণী ও সোহেল নামের একটি স্ত্রী ও পুরুষ চিতাবাঘ নিয়ে আসা হয়েছিল। হর্ষিণী ২০২০ সালে প্রথম দু’টি সন্তান প্রসব করে। জন্মের পর দু’টি শাবকই মারা যায়। কয়েক মাস পরে হর্ষিণী ফের দু’টি সন্তান প্রসব করে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে সে আরও তিনটি শাবক প্রসব করে। জুলজিক্যাল পার্কে চিতাবাঘের সংখ্যা বেড়ে হয় ৭টি। এরপরেই সোহেল ও তার দুই পুরুষ সন্তান সহ ৩টি পুরুষ চিতাবাঘকে ২০২৩ সালে উত্তরবঙ্গে পাঠানো হয়। চিড়িয়াখানায় হর্ষিণী ও তার তিন শাবক ছিল। একটি স্ত্রী চিতাবাঘের মৃত্যু হয় গলায় হাড় আটকে। চিতাবাঘ সোহেল উত্তরবঙ্গে চলে যাওয়ার পর হর্ষিণী সঙ্গীহারা হয়ে পড়েছিল। চিতাবাঘের ‘পলাশ’ নামটিও মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া। হর্ষিণী সঙ্গী পাওয়ায় চিড়িয়াখানার কর্মীদের মধ্যে বসন্ত উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে থাকা বন্যপ্রাণীদের সংখ্যা গত কয়েক বছর ধরে বাড়ছে। এই পার্ক বন্যপ্রাণীদের প্রজননের অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। জন্ম নেওয়া বন্য প্রাণীদের রাজ্যের অন্য চিড়িয়াখানার পাঠানো হচ্ছে। পুরুষ চিতাবাঘের আগমনে চিতাবাঘের সংখ্যা বাড়বে। ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় এদিন বলেন, ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কে নতুন অতিথি এসেছে। অন্যদিকে লাল পলাশে অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রাম রাঙা হয়ে উঠেছে। বসন্ত উৎসবে পর্যটকদের কাছে চিতাবাঘ পলাশ অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে। জেলার মানুষ এই খবরে উচ্ছ্বসিত। ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দা প্রণব মাইতি বলেন, ঝাড়গ্রামের পাহাড অরণ্যে পলাশ ফুটেছে। জুলজিক্যাল পার্কে আনা হয়েছে পলাশ নামের চিতাবাঘকে। জেলার বাসিন্দাদের কাছে এবার বসন্ত উৎসব অন্যরকম হতে যাচ্ছে।