নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: গাঁজা, হেরোইন মিলছে না। তাই ঝাড়গ্রামের যুবসমাজ নিষিদ্ধ সিরাপের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কোডিন পৌঁছে দিচ্ছিল সিরাপ বয়রা। রবিবার রাতে লোধাশুলি এলাকা থেকে পাচারচক্রের সদস্য রুস্তম আলিকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। অবশেষে বড়সড় আন্তঃরাজ্য কোডিন মাদক চক্রের সন্ধান মিলেছে।
ঝাড়গ্রামের এসডিপিও শামিম বিশ্বাস বলেন, গত রবিবার রাতে নিষিদ্ধ সিরাপ পাচার চক্রের এক সদস্যকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। তিন লিটার নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্ৰেপ্তার হওয়া যুবকের বাড়ি ঝাড়গ্রাম শহরের রাধানগর এলাকায়। তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঝাড়গ্রাম রাজ্যের সীমানায় ঝাড়খণ্ড। জেলার সীমানা সংলগ্ন পথগুলি নিষিদ্ধ মাদক পাচারের অন্যতম করিডর। পুলিসের লাগাতার অভিযানে গাঁজা, হেরোইন পাচারের কারবারে ভাটা পড়েছিল। পুলিস সূত্রের খবর এরপরেই বিকল্প নেশা হিসেবে নিষিদ্ধ সিরাপের চাহিদা বাড়তে থাকে। সিরাপের নেশায় আসক্ত যুবকদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছিল। পুলিসের নজর এড়িয়ে জেলায় কীভাবে নিষিদ্ধ সিরাপ আসছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। নিষিদ্ধ সিরাপ পাচার চক্রের এক সদস্য গ্ৰেপ্তার হতেই পাচারের নতুন কৌশল সামনে চলে এসেছে। সিরাপ বয়দের হাত ধরে কোডিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছিল। বিক্রি করা হচ্ছিল চড়া দামে। শহরের ঘোড়াধরা, ময়ূর মোড়, কলাবনী জঙ্গল এলাকায় সিরাপ বিক্রি করা হচ্ছিল। মাদকজাত দ্রব্য হিসেবে শহর ও জেলার যুবকদের মধ্যে ওই সিরাপের জনপ্রিয়তা বাড়ছিল। গাঁজা, হেরোইনের বিকল্প হিসেবে এই সিরাপ ব্যাবহার করা হচ্ছে। জেলার যুবকরা এই সিরাপ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এরপরেই পুলিসের নজরে বিষয়টি আসে। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, পুলিসের ধারাবাহিক অভিযানে গত একবছরে গাঁজা ও হেরোইন চক্রের বেশ কয়েকজন মাথাকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। গাঁজা, হেরোইন ও নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করাও হয়েছে। মাদক চোরাচালানে তারপরেই কিছুটা ভাটা পড়েছিল। নিষিদ্ধ মাদক কারবারিরা বিকল্প নেশা হিসেবে নিষিদ্ধ সিরাপের পাচার শুরু করে। হলুদ রঙের ক্যুরিয়ার প্যাকেটে গাঁজা ও হেরোইন পাচারের কৌশলও ধরা পড়ে। সিরাপ বয়দের এবার পাচারের জন্য ব্যাবহার করা হচ্ছিল। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সিরাপগুলি পৌঁছে যাচ্ছিল। আন্তঃরাজ্য একটি চক্র ওই পাচারের কারবারে সঙ্গে যুক্ত। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক রাজীব দে বলেন, নিষিদ্ধ সিরাপ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া খাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। নিয়মিত সেবন করলে হ্যালুসিনেশন তৈরি হয়। স্নায়ু শিথিল হয়ে যায়। এছাড়াও শ্বাসের গতি ধীর হতে থাকে। অতিরিক্ত মাত্রায় ওই সিরাপ খেলে শরীরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তা প্রাণঘাতী পর্যন্ত হতে পারে। ঝাড়গ্রাম শহরের কলেজ মোড় সংলগ্ন এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, রাত হলেই এই এলাকায় যুবকদের জটলা দেখা যায়। নিজেদের মধ্যে চিৎকার, চেঁচামেচি, মারামারি করে। তাদের আচরণ স্বাভাবিক থাকে না। রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।