Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বডিবিল্ডার হয়ে দৃষ্টান্ত ঝাড়গ্রামে স্কুলের শিক্ষিকা পায়েল মল্লিকের

বডিবিল্ডার হয়ে দৃষ্টান্ত ঝাড়গ্রামে স্কুলের শিক্ষিকা পায়েল মল্লিকের
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: মেয়েদের চেহারা হতে হবে কমনীয়। চালচলন হবে নমনীয়। যুগ যুগ ধরে এমনটাই চেয়ে এসেছে পুরুষশাসিত সমাজ। সেই সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বডি বিল্ডার হয়েছেন ঝাড়গ্রামের স্কুল শিক্ষিকা পায়েল মল্লিক। সামাজিক রীতিনীতির গালে করেছেন বিরাশি সিক্কার চপেটাঘাত। 
ঝাড়গ্রাম শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চল্লিশ বছরের পায়েল মল্লিক গোপীবল্লভপুর খামার জুনিয়র হাইস্কুলের ইংরেজি ভাষার শিক্ষিকা। দশ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। তবে আট বছর আগে তাঁর ধরাবাঁধা জীবনে বদল আসে। সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর পায়েল স্থূলকায় হয়ে পড়েন। ওজন কমাতে যোগা ও শরীরচর্চা শুরু করেন। ধীরে ধীরে বডি বিল্ডিংয়ে আগ্ৰহ জন্মায় তাঁর। বডি বিল্ডার হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করেন। প্রশিক্ষকদের কাছে ট্রেনিং নিতে শুরু করেন। মাত্র ছয় বছরের মধ্যেই বডি বিল্ডার হয়ে ওঠেন তিনি। যদিও এই যাত্রাপথ মোটেই সহজ ছিল না। স্বামীর পূর্ণ সমর্থন মিললেও সমাজের হাসিঠাট্টা, ব্যঙ্গ বিদ্রুপের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। কিন্তু সেই ব্যঙ্গ বিদ্রুপকে উপেক্ষা করেই তিনি এখন জেলার মেয়েদের অনুপ্রেরণা। শহরের বাছুরডোবার বাড়িতে বসে পায়েল মল্লিক বললেন, আমাদের সমাজ এখনও মেয়েদের বডি বিল্ডার হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। মাত্র দশ বছর আগেও আমি সাধারণ একজন গৃহবধূ ছিলাম। সরকারি স্কুলে পড়াতাম। সন্তান জন্মানোর পর স্থূল হয়ে পড়ি। স্থূলতা নিয়ে নানা কথার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। যোগা ও বডি বিল্ডিং করে ওজন কমাই। ততদিন বডি বিল্ডিং নিয়ে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। বডি বিল্ডার হয়ে ওঠার পথেও অবশ্য ব্যঙ্গ বিদ্রুপের শিকার হতে হয়েছে। সমাজ মাধ্যমে নিয়মিত ট্রোলের শিকার হই। আমার স্বামী আমারই মতো শিক্ষক ও বডি বিল্ডার। পরিবারের সমর্থন না পেলে বডি বিল্ডার হতে পারতাম না। জেলার মেয়েদের আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা জানলে আমিও অনুপ্রাণিত হই।  
ঝাড়গ্রাম যোগা অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুকোমল চন্দ বলেন, জেলার অল্পবয়সি মেয়েরা নানা ধরনের খেলায় সাফল্য অর্জন করছে। তবে জেলার একজন শিক্ষিকার বডি বিল্ডার হয়ে ওঠা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মাত্র পাঁচ-ছয় বছর আগে বডি বিল্ডিং শুরু করে এরমধ্যেই রাজ্যস্তরে মহিলা বিভাগের বডি বিল্ডিং প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক লাভ করেছে। এখন জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেলার ক্রীড়ামহল পায়েল মল্লিককে নিয়ে সত্যি গর্বিত। ঝাড়গ্রামের ননীবালা গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অরুন্ধতী সেন বলেন, মেয়েরা এখন সর্বক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরছে। বডি বিল্ডিংও তার বাইরে নয়। সমাজ এখনও যে মেয়েদের বডি বিল্ডিং মানতে পারছে না সেটাই বিস্ময়ের। জেলার একজন শিক্ষিকার সামাজিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে বডি বিল্ডার হয়ে ওয়ে ওঠার ঘটনা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক।

Advertisement

(পায়েল মল্লিক।-নিজস্ব চিত্র)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ