পুজোর মুখে বাবুই ঘাসের চড়া দাম, হাসি ফুটেছে ঝাড়গ্রামের চাষিদের
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বেলপাহাড়ি: পুজোর মুখে বাবুই ঘাসের দাম চড়া হতেই  ঝাড়গ্রামের প্রান্তিক এলাকার চাষিদের মনে স্বস্তি। গত কয়েক বছর ধরে বাবুই ঘাসের কেজি প্রতি দাম ছিল ১০ থেকে ১২ টাকা।  চলতি মরশুমে সেই ঘাসের দাম বেড়ে হয়েছে ৩০-৪০ টাকা। বেলপাহাড়ির বিভিন্ন এলাকায় বাবুই ঘাস কিনতে আসছেন ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের পাইকাররা। শারদোৎসবের আগে এই বাড়তি আয়ে স্থানীয় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। 

Advertisement

বেলপাহাড়ির আমলাশোল, কাঁকড়াঝোড়, ভুলাভেদা, বাঁশপাহাড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকায় এখন বাবুই ঘাস কাটার ব্যস্ততা। পাহাড়ঘেরা রুক্ষ জমিতে এই ঘাস চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন বহু পরিবার। ভাদ্র-আশ্বিন মাস বাবুই ঘাস কাটার উপযুক্ত সময়। সময় পেরিয়ে গেলে ঘাস শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই পরিবারের পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও ঘাস কাটা ও সংগ্রহের কাজে হাত লাগিয়েছেন। বাবুই ঘাসের গুরুত্ব শুধু দড়ি তৈরিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বাস ঘাস দিয়ে তৈরি হস্তজাত শিল্পের চাহিদা বাড়ছে দেশজুড়ে। বেলপাহাড়ির গোহালবেড়া গ্রামের বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ সিং বলেন, আমাদের পাহাড়ি রুক্ষ জমিতে প্রচুর বাবুই ঘাস জন্মায়। এখন ঘাস কাটার কাজ চলছে। আগের তুলনায় এবার দ্বিগুণ দামে ঘাস বিক্রি হচ্ছে। এই এলাকার বেশিরভাগ ঘাস ওড়িশায় যায়। পাইকাররা বেশি দাম দিয়ে তা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।প্রশাসন সাহায্য করায় দাম এবার বেশি পাচ্ছি। 
গ্রামেরঅপর বাসিন্দা বৈকুণ্ঠ সিংয়ের কথায়, পাহাড়ী এই এলাকায় ধান বা অন্য সবজির চাষ বেশি হয়না। রুক্ষ্মজমিতে জন্মায় বাবুই ঘাস। একবার বীজ ফেললে প্রতিবছর বীজ ফেলার প্রয়োজন হয়না। পুজোর মুখে দাম বেশি মেলায় স্বস্তি বোধ করছি। নয়াগ্রামের চাঁদাবিলার নারদা গ্রামের বাসিন্দা প্রতিমা মাহাতর কথায়, বাবুই ঘাস দিয়ে খাবারের বাক্স, ল্যাম্প সেট-সহ নানা ধরনের সামগ্রী তৈরি হয়। প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন মেলায় যাওয়ার সুযোগ মেলে। আমাদের তৈরি হস্তজাত সামগ্রী এখন কলকাতা, গোয়া ও দিল্লিতেও যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বেলপাহাড়ির বাবুই ঘাস কিছুটা মোটা।  হস্তশিল্পের কাজে আমরা  সাধারণত নয়াগ্রামের ঘাস ব্যবহার করছি। 
বেলপাহাড়ী পঞ্চায়েতের প্রধান জয়দেব সিং বলেন,পাহাড়ী এই এলাকার রুক্ষ জমিতে প্রচুর পরিমাণ বাবুই ঘাস জন্মায়। স্থানীয় চাষিরা কাটা ঘাস থেকে দড়ি প্রস্তুত করেন। পাইকারদের কাছে ঘাস বিক্রি করেন। ঘাসের দাম বাড়ায় প্রান্তিক চাষিদের রোজগার বেড়েছে। বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুড বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাবুই ঘাস সংগ্রহকারীরা ন্যায্য দাম পেতেন না। তাঁদের যাতে উপযুক্ত দাম মেলে, তার জন্য পদক্ষেপ করা হয়েছিল।জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে তৈরি বাবুই ঘাসের সামগ্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। রোজগারের নয়া পথ খুলে গিয়েছে।