Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রাম: ভিন রাজ্যের বিজেপি নেতাদের জন্য দামি ফ্ল্যাট! ফাই ফরমাশে স্থানীয় কর্মীরা, বাড়ছে ক্ষোভ

ঝাড়গ্রামে বিজেপির হয়ে ভোট করাতে আসছেন মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশের ভোটকুশলীরা। তাঁদের জন্য শহরে দশটি ফ্ল্যাট বুক করা হয়েছে। বিজেপির জেলা নেতাদের ভোটপ্রচারের কৌশল শেখাবেন তাঁরা।

ঝাড়গ্রাম: ভিন রাজ্যের বিজেপি নেতাদের জন্য দামি ফ্ল্যাট! ফাই ফরমাশে স্থানীয় কর্মীরা, বাড়ছে ক্ষোভ
  • ৩০ মার্চ, ২০২৬ ২৩:০৩
Prefer us on Google

প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে বিজেপির হয়ে ভোট করাতে আসছেন মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশের ভোটকুশলীরা। তাঁদের জন্য শহরে দশটি ফ্ল্যাট বুক করা হয়েছে। বিজেপির জেলা নেতাদের ভোটপ্রচারের কৌশল শেখাবেন তাঁরা। ভোট পরিচালনার কাজে আসা নেতাদের দেখভালের দায়িত্বে থাকবেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। শহরের সিধো কানহো মোড় ও হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ফ্ল্যাটগুলি বুক করা হয়েছে। ৪ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশ অবধি ওই ভোটকুশলীরা ঝাড়গ্রাম শহরেই থাকবেন। কিন্তু এভাবে ভিন রাজ্যের নেতাদের মাথায় বসিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ জেলার নেতৃত্ব। এই ঘটনায় জেলা নেতৃত্বের উপর থেকে সাধারণ কর্মী ও নেতাদের আস্থা কমছে। জেলার নেতারা তাই ভিন রাজ্যের নেতাদের ‘লেজুড়’ হয়ে ঘুরতে রাজি নন। মাঠে নেমে লড়াই করা বিজেপি কর্মীদের দিয়ে ফাইফরমাশ খাটানো নিয়েও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। 

Advertisement

বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে প্রথমদিন থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রার্থী বদল করার দাবিতে বিজেপি কর্মীরা শহরের জেলা কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। বিনপুর বিধানসভার প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে। বেলপাহাড়ী ও জামবনী পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে। দেওয়াল লিখনের জন্য প্রতি বুথে চার হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। অথচ বিনপুর বিধানসভার বিজেপি কর্মীরা সেই টাকা এখনও পাননি। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। 
গোপীবল্লভপুরের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতোকে নিয়েও দলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছে। ভোটের প্রচারে পুরনো নেতাকর্মীদের দেখা যাচ্ছে না। ভোটের মুখে দলের খবর বাইরে ফাঁস হয়ে যাওয়া নিয়ে বিজেপির অন্দরে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। মুখ বন্ধ রাখার ফতোয়া জারি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র থেকে নিয়ে আসা নেতাদের নিয়ে জেলা নেতৃত্বের একাংশ আশঙ্কিত। ভোটের সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে তাঁরা ফিরে যাবেন। ভোটের পর তার দায় নিতে হবে স্থানীয় নেতাকর্মীদেরই। ব্যক্তিগত স্তরে যুবকর্মীদের তাঁরা বুঝেশুনে ভোট প্রচারের জন্য বলছেন। শহরের এক বিজেপি নেতা বলেন, মহারাষ্ট্রের ভোটকুশলী, উত্তরপ্রদেশের বুলডোজার স্পেশালিস্ট নেতারা আসছেন। বুকিং করা ফ্ল্যাটে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত থাকবেন। ভোট পরিচালনা করবেন। তাঁদের জন্য অনেক টাকা খরচ করা হচ্ছে। অথচ দলের কর্মীরা দেওয়াল লেখার টাকা পাচ্ছেন না। দলের সৈনিকরা যেখানে উপেক্ষিত সেখানে আমরা কীভাবে জিতব? 
জামবনী ব্লকের এক বিজেপি কর্মী বলেন, বুথপিছু দেওয়াল লেখার চার হাজার টাকা এখনও পাইনি। পরে টাকা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। নেতা কারা, সেটাই এখন বুঝতে পারছি না। গোপীবল্লভপুরের এক বিজেপি নেতা বলেন, রাজেশ মাহতো মস্তানদের স্টাইলে প্রচার করছেন। এলাকার মানুষ এমন আচারণ মেনে নেবেন না। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গী বলেন, ভোট এলেই বিজেপির পরিযায়ী নেতাদের বাংলায় আসা শুরু হয়ে যায়। এসে উসকানি দেয়। তৃণমূলের কর্মীরা যাতে সেই ফাঁদে পা না দেন, তারজন্য সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতিক্রিয়ার জন্য বিজেপি সভাপতি তুফান মাহাতোকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ