নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামে নদী থেকে বালি চুরি ও পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। লাগামহীন বালি পাচার জেলার পুলিস প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী বালি পাচার আটকাতে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। জেলার সুবর্ণরেখা, কংসাবতী নদীতে বর্তমানে ৭টি বৈধ বালি খাদান আছে। বেআইনি বালি পাচার রুখতে তৎপরতা শুরু হতেই সাফল্য মিলতে শুরু করেছে। জেলায় বৈধ বালি খাদান থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, জেলায় নদী থেকে বালি চুরি ও পাচার রুখতে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। সাফল্য মিলতে শুরু করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বালি খাদান থেকে রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছি আমরা। গত কয়েক দশকে এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়নি। ঝাড়গ্রামের দক্ষিণ অংশ দিয়ে সুবর্ণরেখা নদী বয়ে গিয়েছে। এখানে ৫টি বৈধ বালি খাদান আছে। উত্তর অংশে কংসাবতীতে ২টি বৈধ খাদান রয়েছে। জেলার পাশেই ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার সীমানা। ঝাড়গ্রামের পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজ্যে ট্রাকভর্তি বালি পাচারের অভিযোগ ছিল। শাসকদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের যোগসাজশে সিন্ডিকেট গড়ে বালি পাচার হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এতে শাসকদলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছিল। তাছাড়া রাজ্য সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিস ও প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বেআইনি বালি পাচার বরদাস্ত করা হবে না। জেলার পুলিস ও প্রশাসনের তরফে এরপরেই তৎপরতা বাড়ানো হয়। একের পর এক চালানহীন বালির গাড়ি আটকে জরিমানা করা হয়। রাতে নাকা চেকিংয়ের সঙ্গেই জেলার নদী তীরবর্তী বালি খাদানগুলিতে রাতভর অভিযান চালানো হচ্ছিল। কড়া নজরদারি ও ধরপাকড় শুরু হতেই বালি পাচার কমতে থাকে। জেলায় নদীর গতিপথের সীমারেখা ছোট হওয়া সত্ত্বেও ২৪-২৫ অর্থবর্ষে বালি খাদান থেকে রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয়েছে। ভূমিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী একসময় ঝাড়গ্রামে সরকার অনুমোদিত ৭৩টি খাদান ছিল।



