নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: দোলযাত্রার আগের দিন ঝাড়গ্রামের ঘোড়াধরা পার্কে পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় হোলিকা দহনের মাধ্যমে অশুভের বিনাশ ও শুভ শক্তির উদযাপন হবে। ঝাড়গ্রাম জেলা বসন্ত উৎসব কমিটির উদ্যোগে হোলিকা দহন ও বসন্ত উৎসবে জেলার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন।
ঝাড়গ্রামের মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির নিবিড় যোগ রয়েছে। জেলার প্রতিটি উৎসবের সঙ্গে অরণ্য সংস্কৃতি মিলেমিশে থাকে। হোলিকা দহনের মধ্য দিয়ে শুভ শক্তিকে আহ্বান করা হয়। নতুনরূপে সেজে ওঠা প্রকৃতিকে বসন্ত উৎসবের মাধ্যমে বরণ করা হয়। ঝাড়গ্রাম জেলা বসন্ত উৎসব কমিটির উদ্যোগে ২০১৩সাল থেকে উৎসব হচ্ছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঘোড়াধরা পার্কের বসন্ত উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ১৩ ও ১৪ মার্চ দু’দিন ধরে উৎসব হবে। ঘোড়াধরার সবুজ উদ্যানের মূল ও অঙ্গন মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। জেলার স্কুলকলেজের ছাত্রী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। দোলযাত্রার আগের দিন বিকেল থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবে। জেলার বিশিষ্ট কবিরা মঞ্চে কবিতাপাঠ করবেন। রাতে হোলিকা দহন হবে। পরদিন প্রভাতফেরির মাধ্যমে বসন্ত উৎসবের সূচনা হবে। জেলার অগণিত মানুষ বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরিতে অংশ নেবেন। দিনভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। উৎসবে যোগ দেওয়া সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যটকদেরও অনুষ্ঠানে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বসন্ত উৎসব কমিটির সভাপতি অজিত মাহাত বলেন, অরণ্যভূমির নিজস্ব লোকাচার ও সংস্কৃতি আছে। প্রতি ঋতুতে এখানে নানা লোক উৎসব হয়। বসন্ত উৎসব তার মধ্যে সবচেয়ে বড়। সেই উৎসবের সঙ্গে হোলিকা দহন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দারা এই উৎসবে শামিল হন।
উৎসব কমিটির সম্পাদক দেবজিৎ মান্না বলেন, হোলিকা দহন এখানে খুব বড় করে হয়। দু’দিনের উৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে কমিটির সদস্যরা দিনরাত কাজ করে চলেছেন। কমিটির সদস্য পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জেলার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকারা অনুষ্ঠান করবেন। জেলার কবি-সাহিত্যিকদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র