Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

থিমের বাহার রিষড়ায়, আজ জনস্রোতের সম্ভাবনা

উৎসব একটু দীর্ঘ করতে বিষড়ায় বাড়িয়ে তোলা হয়েছিল পুজো দেখার সময়সীমা। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জনের পরও তাই মুগ্ধ করার পসরা সাজিয়ে বসে থাকে রিষড়া।

থিমের বাহার রিষড়ায়, আজ জনস্রোতের সম্ভাবনা
  • ২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উৎসব একটু দীর্ঘ করতে বিষড়ায় বাড়িয়ে তোলা হয়েছিল পুজো দেখার সময়সীমা। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জনের পরও তাই মুগ্ধ করার পসরা সাজিয়ে বসে থাকে রিষড়া। আর সেই মুগ্ধতার পরিবেশ তৈরি হয় নানা থিম আর আলোর কারসাজিতে। মণ্ডপ, প্রতিমা, আলোর সাজ, সবেতেই থিমের অভিনব আয়োজন সঙ্গে করে দর্শক মাতাতে নেমেছে হুগলির নতুন জগদ্ধাত্রী নগরী। পুজো সংখ্যায় যেমন বেড়েছে তেমনই বেড়েছে আড়ম্বরে। থিম তাতে জুড়েছে বাড়তি আকর্ষণের মাত্রা। 

Advertisement

সাহিত্যে মৎস্যজীবীদের জীবন অনেক কিছুতে ধরা আছে। বাংলায় পদ্মানদীর মাঝি বা মালয়ালাম চেম্মিন(চিংড়ি) সেই জা঩তের উপন্যাস। বাংলার গঙ্গাপুজো ছাড়া অন্য পুজোর সঙ্গে মৎস্যজীবীদের বিশেষ যোগ নেই। কিন্তু থিমই যেখানে পুজোর আকর্ষণ গড়ে সেখানে নতুনের সন্ধানই মুখ্য হয়ে ওঠে। সেই ধারাতেই মৎস্যজীবী মহল্লায় দেবী জগদ্ধাত্রীকে হাজির করেছে রিষড়ার পার্ক সম্মিলনি। নানারকম জাল, মাছ ধরার সামগ্রী, একগুচ্ছ মডেল, নৌকা এসবেই গড়ে তোলা হয়েছে মৎস্যজীবীদের পল্লি। আর সেখানেই সাবেক ধাঁচায় হাজির হয়েছেন মৃন্ময়ীদেবী। দেবীর সাজ তৈরি হয়েছে শোলার পরিবর্তে পাটের তন্তু দিয়ে। দেবী আবাহনকে ঘিরে মৎস্যজীবী মহল্লায় আনন্দের পরিসরকে আলোর সাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পুজো উদ্যোক্তা অনিমেষ দাশগুপ্ত বলেন, ‘সংগ্রামী জীবন মৎস্যজীবীদের। আমরা তাঁদের আনন্দের অনুভবকেই থিম করেছি।’
মাছের পর মিলবে পাখিজীবন। পাখিকে কেন্দ্র করে এক অমূর্ত ভাবনার আদল গড়তে চেয়েছে ৪৬তম বর্ষে পা দেওয়া রিষড়ার নিউ ভাই ভাই সংঘ। উদ্যোক্তাদের এবারের ভাবনা, মুক্ত বিহঙ্গ। পাখির খাঁচা থেকে মুক্তি পাওয়া আর মানুষের জীবনের মুক্তির সন্ধানকে একত্র করে থিম সাজানো হয়েছে। বাঁশ ও কাঠের মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে স্বাভাবিক ও খাঁচায় রাখা পাখির বাসা। থাকছে মডেল। আবার পাখির ডাক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আবহসঙ্গীত। মনোহর মণ্ডপসজ্জায় সাবেক ও আধুনিক ধাঁচা মিলিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। থিমের সঙ্গে মানানসই আলোকসজ্জায় সেজেছে মণ্ডপ থেকে পথঘাট। পুজো উদ্যোক্তা অরিজিৎ দাস বলেন, ‘বন্ধজীবন আর মুক্তজীবনকে কেন্দ্র করে আমরা থিম সাজিয়েছে। পাখি এখানে প্রতীক।’
বাস্তবের স্থাপত্যকে থিমের আধার করার প্রবণতা পুরনো হলেও তা বিস্ময় জাগায় নবনির্মাণে। রিষড়ার লেনিনমাঠ যুবগোষ্ঠী তাদের ৪৫বছরের পুজোতে ইসকন মন্দিরকে তুলে এনেছে। ৮৫ফুট উচ্চতা ও ৬০ ফুট চওড়া মণ্ডপে অবিকল ইসকনের আদল। তা দেখতে ইতিমধ্যেই ভিড় জমেছে। পুজো উদ্যোক্তা সুপ্রিম দাশগুপ্ত বলেন, ‘থিমের সঙ্গে মানানসই প্রতিমা ও আলোকসজ্জা রাখা হয়েছে।’ 
শনিবার হুগলির ঐতিহ্যের জগদ্ধাত্রী নগরীতে ছিল শোভাযাত্রা। রিষড়া থেকে বহু মানুষ সেখানে গিয়েছেন। তার আগে অবশ্য নিজের শহরের মনোহর মণ্ডপসজ্জা দেখতে ভিড়ও করেছিলেন। তবে আজ, রবিবার থেকে আকর্ষণের কেন্দ্রে চলে আসবে রিষড়া। সেই লক্ষ্যেই বাড়ানো হয়েছিল উৎসব মরশুম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ