সংবাদদাতা, লালবাগ: শুক্রবারের পর শনিবারও জিয়াগঞ্জ শহরের রাস্তায় টোটো নামল না। ফলে এদিনও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির ছবিটা একই ছিল। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষজনকে একপ্রকার হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। শহরে টোটো পরিষেবা বন্ধ থাকায় নায্য ভাড়ার চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া হাঁকল রিকশ ও ভ্যান চালকরা। অনেকে বাধ্য হয়ে তাতেই রাজি হলেন। শুক্রবার বিষয়টি জানার পরেই সমস্যার সমাধান সূত্র খুঁজতে জিয়াগঞ্জ টোটো ইউনিয়নকে আলোচনায় ডাকেন লালবাগ মহকুমা শাসক বনমালী রায়। শনিবার দুপুরে টোটো ইউনিয়নের সাত সদস্যের একটি দল লালবাগ মহকুমা শাসকের সঙ্গে আলোচনায় বসে। টোটো সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। মহকুমা শাসক বলেন, রেজিস্ট্রেশন ফি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জিয়াগঞ্জের টোটো চালকরা শুক্রবার থেকে শহরে পরিষেবা বন্ধ রেখেছেন। বিষয়টি জানার পরেই টোটো সংগঠনের নেতৃত্বকে আলোচনায় ডেকেছিলাম। সংগঠনের তরফে তাদের দাবিগুলি তুলে ধরা হয়। জেলা আরটিও’র সঙ্গে আলোচনা করে যা করা সম্ভব তা করা হবে। তবে টোটো পরিষেবা বন্ধ থাকায় গত দু’দিন ধরে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কাজেই টোটো পরিষেবা চালু করার জন্য বলেছি।
Advertisement
টোটো ইউনিয়নের সভাপতি প্রভাস সাহা বলেন, লালবাগ মহকুমা শাসককে আমাদের দাবিগুলি জানিয়েছি। উনি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। টোটো বন্ধ থাকলেও বিনা মূল্যে প্রসূতি মহিলা, অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতাল এবং পরীক্ষার্থীদের স্কুলে পৌঁছনো প্রভৃতি জরুরিকালীন পরিষেবা চালু রয়েছে। জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, পুরসভার তরফে বিষয়টি আরটিও’র সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও টোটো সংগঠন পরিষেবা বন্ধের হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে জিয়াগঞ্জের পাশাপাশি বাইরে থেকে আগত মানুষজন সমস্যায় পড়ছেন। ইউনিয়ন টোটো পরিষেবা চালু না করলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে।



