সংবাদদাতা, লালবাগ: বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও কিরীটেশ্বরীর পাশাপাশি জিয়াগঞ্জ, লালবাগ শহরের প্রাচীন মন্দির এবং লালগোলা রাজাদের কালীবাড়িতে ভক্তদের ভিড় ছিল। এইদিন সকাল থেকে ভক্তরা পুজোর ডালি নিয়ে প্রাচীন মন্দিরগুলিতে হাজির হতে শুরু করেন। জিয়াগঞ্জ শহরের বুড়ি কালী, আমুইপাড়ার ডাকাত কালী, জটাকালী এবং সদরঘাটের সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দিরে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। পাশাপাশি লালগোলা রাজাদের রাজেশ্বরী মায়ের মন্দিরেও ভক্তদের লম্বা লাইন লক্ষ্য করা যায়। ভক্তদের পাশাপাশি প্রাচীন মন্দিরগুলিতে সকাল থেকেই স্থানীয়দের সঙ্গে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল।
Advertisement
কিরীটেশ্বরী মন্দিরের সেবাইত দিলীপ ভট্টাচার্য বলেন, বৃহস্পতিবার সারারাত ধরে মায়ের পুজো হয়েছে। বেশ কয়েক হাজার ভক্ত মায়ের পুজো দেন। শুক্রবারও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েকশো ভক্ত পুজো দিয়েছেন। শুক্রবার দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই মহকুমার প্রাচীন মন্দিরগুলির পাশাপাশি লালবাগ, জিয়াগঞ্জ, নবগ্রাম, লালগোলার সর্বজনীন মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত বাড়তেই দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এইদিনও মণ্ডপগুলির পাশাপাশি শহর ও গ্রামাঞ্চলের বাড়িগুলি আলোকমালায় সেজে ওঠে। লালবাগ মহকুমার সর্বজনীন পুজোগুলির মধ্যে সর্বাধিক দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায় জিয়াগঞ্জের বাগডহর শ্যামাপুজো মণ্ডপে। পাঁচ সতীপীঠের আদলে পাঁচটি মণ্ডপ গড়ে তোলা হয়েছে। সন্ধ্যা থেকেই দর্শনার্থীদের লম্বা লাইন পড়ে যায়। পুজোর প্রধান উদ্যোক্তা দেবাশিস সরকার বলেন, বুধবার বিকেলে উদ্বোধন হয়। ওইদিন সন্ধ্যা থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। লালবাগ শহরের পণ্ডিতবাগ যুব সঙ্ঘ, জিয়াগঞ্জ ভট্টপাড়া জাগরণী সঙ্ঘ, লালগোলার উদয়ন সঙ্ঘ, বিধান সঙ্ঘ সহ বেশ কয়েকটি ক্লাবের পুজোয় দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। পুজো উপলক্ষ্যে কয়েকটি ক্লাবের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় প্রচুর পুলিস কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিস সুপার (লালবাগ) রাসপ্রিত সিং বলেন, রোমিওদের বাইকের গতিতে রাশ টানতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাস্তা এবং মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় পুলিস কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।



