নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: মণ্ডল সভাপতিদের তালিকা প্রকাশিত হতেই পুরুলিয়া জেলাজুড়ে বিজেপির অন্দরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি নেতারা নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছেন। তাঁদের নিশানায় বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় দুই নেতা।
Advertisement
রবিবার সন্ধ্যাতেই বিজেপির মণ্ডল সভাপতিদের প্রথম দফার তালিকা প্রকাশিত হয়। জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৩৬টি মণ্ডলের মধ্যে ২৬টি মণ্ডলের সভাপতিদের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে ১৩টি মণ্ডলের সভাপতি পদে নতুন মুখ আনা হয়েছে। বাকি ১৩টি মণ্ডলে পুরনো মুখেই ভরসা খুঁজেছে বিজেপি। তবে, এই তালিকা সামনে আসতেই ক্ষোভের আগুন জ্বলতে শুরু করেছে বিজেপির অন্দরে। অনেকেই সেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এক দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী ফেসবুকে লেখেন, ‘পুরুলিয়া জেলা বিজেপি জগাই-মাধাইয়ের কবলে। যে জগাই-মাধাইকে যত তেল লাগাতে পেরেছে, সে তত বড় পদে বসে আছে।’ স্বভাবতই এই পোস্ট দেখে অনেকেরই প্রশ্ন, কে এই জগাই মাধাই? বিজেপির নেতাদের একাংশের দাবি, এই জগাই-মাধাই হল জেলা বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা। একজন জনপ্রতিনিধি, যিনি জেলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। অন্যজন জেলা বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় পদে রয়েছেন। বর্তমানে পার্টি চালাচ্ছেন এই দু’জনেই। তাঁদের দাপটে বাকি নেতারা কার্যত কোণঠাসা।
বিজেপি বিরোধীরাও মানেন, রাজ্যের মধ্যে বিজেপির উত্থান এই পুরুলিয়া থেকেই। তবে যাঁদের হাত ধরে বিজেপির উত্থান, সেইসব নেতাই আজ দলে কোণঠাসা। আবার, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যাঁরা ‘দাদার অনুগামী’ হয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছিলেন, বর্তমানে জগাই-মাধাই এর দাপটে তাঁদেরও দলে করুণ অবস্থা! পদে থাকলেও মর্যাদা নেই। শুধু তাই নয়, নিজেদের লোককে রাখতে প্রতি মণ্ডল থেকে সভাপতি পদে মাত্র একজনেরই নাম জেলা থেকে সুপারিশ গিয়েছে। কোনও বিকল্প নাম রাখাই হয়নি।
এনিয়ে পুরুলিয়া জেলা বিজেপির সভাপতি বিবেক রাঙা অবশ্য বলেন, কোনও ব্যাপারে ১০০ শতাংশ মানুষই যে সহমত হবেন, সেটা হয় না। ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকবে। তবে এর কোনও প্রভাবই পড়বে না। আগামী নির্বাচনে পুরুলিয়া থেকে সবকটি আসনই আমরা জিতব। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া পাল্টা বলেন, নিজেদের মধ্যে কোন্দল করেই বিজেপি দলটা একদিন শেষ হয়ে যাবে। ওরা আবার তৃণমূলের বিরোধিতা করতে আসে।
এদিকে, ক্ষোভ দেখা দিয়েছে রঘুনাথপুরেও। রঘুনাথপুর বিধানসভা বাউরি জন-জাতিবহুল এলাকা। বর্তমানে বিধানসভা এলাকায় বাউরি জনজাতির আনুমানিক ৩০ শতাংশ ভোটার রয়েছে। সেখানে রঘুনাথপুর বিধাসভা এলাকার বিজেপির ছ’টি মণ্ডলের একটিতেও বাউরি জনজাতির কাউকে সভাপতি হিসেবে রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বিজেপি নেতা সরব হয়েছেন। বিজেপির একাধিক নেতার ক্ষোভ, বর্তমানে দলের নেতৃত্ব রঘুনাথপুরকে তৃণমূলের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। না হলে বাউরি জনজাতি ভুক্ত রঘুনাথপুর বিধানসভায় একজনকে কী দায়িত্ব দেওয়া যেত না! বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার রিটার্নিং অফিসার বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি জাত পাতের রাজনীতি করে না। সবকা সাথ সবকা বিকাশ চাই। দল যাদের দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের সাংগঠনিক গুরুত্ব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কারও ক্ষোভ থাকলে সেটা দলীয়ভাবে জানাতে পারে।
বিজেপি বিরোধীরাও মানেন, রাজ্যের মধ্যে বিজেপির উত্থান এই পুরুলিয়া থেকেই। তবে যাঁদের হাত ধরে বিজেপির উত্থান, সেইসব নেতাই আজ দলে কোণঠাসা। আবার, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যাঁরা ‘দাদার অনুগামী’ হয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছিলেন, বর্তমানে জগাই-মাধাই এর দাপটে তাঁদেরও দলে করুণ অবস্থা! পদে থাকলেও মর্যাদা নেই। শুধু তাই নয়, নিজেদের লোককে রাখতে প্রতি মণ্ডল থেকে সভাপতি পদে মাত্র একজনেরই নাম জেলা থেকে সুপারিশ গিয়েছে। কোনও বিকল্প নাম রাখাই হয়নি।
এনিয়ে পুরুলিয়া জেলা বিজেপির সভাপতি বিবেক রাঙা অবশ্য বলেন, কোনও ব্যাপারে ১০০ শতাংশ মানুষই যে সহমত হবেন, সেটা হয় না। ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকবে। তবে এর কোনও প্রভাবই পড়বে না। আগামী নির্বাচনে পুরুলিয়া থেকে সবকটি আসনই আমরা জিতব। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া পাল্টা বলেন, নিজেদের মধ্যে কোন্দল করেই বিজেপি দলটা একদিন শেষ হয়ে যাবে। ওরা আবার তৃণমূলের বিরোধিতা করতে আসে।
এদিকে, ক্ষোভ দেখা দিয়েছে রঘুনাথপুরেও। রঘুনাথপুর বিধানসভা বাউরি জন-জাতিবহুল এলাকা। বর্তমানে বিধানসভা এলাকায় বাউরি জনজাতির আনুমানিক ৩০ শতাংশ ভোটার রয়েছে। সেখানে রঘুনাথপুর বিধাসভা এলাকার বিজেপির ছ’টি মণ্ডলের একটিতেও বাউরি জনজাতির কাউকে সভাপতি হিসেবে রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বিজেপি নেতা সরব হয়েছেন। বিজেপির একাধিক নেতার ক্ষোভ, বর্তমানে দলের নেতৃত্ব রঘুনাথপুরকে তৃণমূলের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। না হলে বাউরি জনজাতি ভুক্ত রঘুনাথপুর বিধানসভায় একজনকে কী দায়িত্ব দেওয়া যেত না! বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার রিটার্নিং অফিসার বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি জাত পাতের রাজনীতি করে না। সবকা সাথ সবকা বিকাশ চাই। দল যাদের দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের সাংগঠনিক গুরুত্ব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কারও ক্ষোভ থাকলে সেটা দলীয়ভাবে জানাতে পারে।



