Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জগদ্ধাত্রীর আরাধনায় মাতল বোলপুর

জগদ্ধাত্রীর আরাধনায় মাতল বোলপুর
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: যথাযথ মর্যাদা ও জাঁকজমক করে বোলপুরের বিভিন্ন প্রান্তে উদযাপিত হল জগদ্ধাত্রী পুজো। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর পর বোলপুরের যে ক’টি জায়গায় ধুমধাম করে জগদ্ধাত্রী পুজো হয়, তার মধ্যে দেবেন্দ্রগঞ্জ সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো ও হাটতলা সংলগ্ন কালীপুকুর সেবা সমিতির পুজো বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এই দুই কমিটিই সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী- তিনদিনের পুজো এক আসনে করে। তবে কালীপুকুর সেবা সমিতিতে নবমীর দিন কুমারী পুজো করা হয় বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। 
Advertisement
বোলপুর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেবেন্দ্রগঞ্জ সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো শতাব্দী প্রাচীন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটা সময় এই পুজো পারিবারিক স্তরে সীমিত ছিল। পুজোটি শুরু করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা প্রয়াত ডঃ রামরঞ্জন মুখোপাধ্যায়।‌ পরবর্তীকালে তা পারিবারিক থেকে সর্বজনীনভাবে পুজোর রূপ পায়।‌ মন্দিরের পাশেই বিশাল শ্যাওড়া গাছ ছিল বলে বোলপুরবাসীর কাছে এটি শ্যাওড়াতলার পুজো বলেও খ্যাত। পরবর্তীকালে বোলপুরের রায়পুরের বাসিন্দা বিজলীবালাদেবী এই জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য জমিদান করেন। সেই জমিতে মন্দির নির্মাণ করেন রামরঞ্জনবাবুর পারিবারিক সদস্য প্রয়াত জগন্নাথ মুখোপাধ্যায়। পুজো কমিটির দুই সদস্য বিদ্যুৎ দত্ত মুদি ও অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, এলাকাবাসী নিজেদের সাধ্যমতো অনুদান দিয়ে বছরের পর বছর এই পুজো উদযাপন করছেন।‌ দুর্গাপুজোর মতোই বিধি মানা হয়। ‌পুজোর পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। 
বোলপুরের বোলপুরের হাটতলা সংলগ্ন কালীপুকুরের বাসিন্দারা জগদ্ধাত্রীর পুজোর জন্য সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন। এই পাড়াটি দু’টি ওয়ার্ডে বিভক্ত। ভৌগোলিক সীমানা অনুযায়ী রাস্তার বাঁদিকে রয়েছে পুরসভার ১৩ নম্বর ও ডানদিকে রয়েছে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। ওয়ার্ড ভিত্তিক বিভক্ত হলেও জোটবদ্ধভাবে তারা বিগত ৪২ বছর ধরে জাঁকজমক করে জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করছেন। সম্পাদক বাদল রায় ও কোষাধ্যক্ষ কৈলাস সিং বলেন চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো সারা দেশে বিখ্যাত। একবার পাড়ার বেশ কিছু সদস্য মিলে সেখানে গিয়ে মায়ের পুজো দেখে মোহিত হয়ে যান। ফিরে আসার পর আমরা মিলিতভাবে নিজেদের পাড়াতে জগদ্ধাত্রী পুজো করার সিদ্ধান্ত নিই। তখন থেকেই যথাযথ রীতি মেনে এই পুজো হয়ে আসছে। নবমীর দিন কুমারী পুজো করা হয়। ধর্মীয় রীতিনীতির পাশাপাশি পুজোর চারটে দিন এলাকা কার্যত চাঁদের হাটে পরিণত হয়। সারা বছর ব্যবসা বা চাকরির কাজে এলাকাবাসী ব্যস্ত থাকলেও উৎসবের দিনগুলিতে একসঙ্গে আনন্দ উপভোগ করেন। ‌এই উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান করে এলাকাবাসীর সাধ্যমত মনোরঞ্জন করা হয়। এই দুই পুজো ছাড়াও ইলামবাজারের পায়ের সহ বোলপুরের নানা এলাকায় পারিবারিকভাবে জগদ্ধাত্রী পুজো উদযাপিত হয়। 
সম্পর্কিত সংবাদ