Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জগদ্ধাত্রী পুজোর ভাসানে লাঠিচার্জ

জগদ্ধাত্রী পুজোর ভাসানে লাঠিচার্জ
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সোমবার রাতে নির্বিঘ্নেই ভাসান চলছিল। একের পর এক পুজো কমিটি সাঙের প্রতিমা নিয়ে নিজস্ব ছন্দেই শহর প্রদক্ষিণ করছিল। দর্শনার্থীরাও প্রতিমা দর্শনে ভিড় করেছিলেন রাস্তার দু’ধারে। সেই ছন্দ পতন ঘটল কাক ভোরে। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিসকে ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে হয়। যার ফলে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো দর্শনার্থীদের লাঠির আঘাত খেতে হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তারপর থেকেই ভাসান প্রক্রিয়ায় গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়,‌ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বেশ কয়েকটি পুজো কমিটিকে ‘গদা’ হাতে শোভাযাত্রায় শামিল হতে দেখা যায়। যা নিয়েও শোভাযাত্রায় বেরনো পুজো কমিটির সদস্যদের সঙ্গে পুলিসের বচসা হয়। পুলিস ‘গদা’ নিয়ে শোভাযাত্রায় বেরনোয় আপত্তি জানালেও, তা শেষপর্যন্ত শোনেনি বেশ কিছু পুজো কমিটি। বিগত কয়েক বছরের মতো এবছরও ভাসান প্রক্রিয়া শেষ হতে মঙ্গলবার দুপুর গড়িয়ে যায়। সকাল ৮টা নাগাদ কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত বুড়িমা চাষাপাড়া বারোয়ারি থেকে বের হন। শহর প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে সাঙ ভেঙে যায় বুড়িমার। দুপুর ১টা নাগাদ সাঙের শেষ প্রতিমা বুড়িমার ভাসান হয়। 
Advertisement
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, ‘শোভাযাত্রায় কিছু মদ্যপ ব্যক্তি ছিল, যারা সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করছিল। পুলিস তখন তাদের বাধা দেয়। কিন্তু, তারা পুলিসের উপরেই চড়াও হয়। যার জন্য পুলিসকে অ্যাকশন নিতে হয়। এনিয়ে আমরা একটা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করছি।’
সোমবার সন্ধ্যার দিকে ঘট ভাসান শেষ হয়। তারপর শুরু হয় সাঙের প্রতিমার ভাসান। যদিও প্রথম দিনের ভাসানে সাঙের প্রতিমার পাশাপাশি বেশকিছু লরিতেও প্রতিমা ছিল। সন্ধ্যা থেকে প্রতিমা ভাসানের প্রক্রিয়া চলছিল নিজের ছন্দে। শোভাযাত্রা করে জগদ্ধাত্রী প্রতিমা নিয়ে পুজো কমিটিগুলি কদমতলা ঘাটে পৌঁছয়। রাত ১১টা নাগাদ শুরু হয় সাঙের প্রতিমার ভাসান। শুরুর দিকে সমস্ত পুজো কমিটিই নির্দিষ্ট সময়ে বের হয়। দেখা গিয়েছে, রাত ১২টা নাগাদ চকেরপাড়া বারোয়ারি পোস্ট অফিস মোড় পার করে কদমতলা ঘাটের দিকে যেতে।‌ এমনকী রাত ১টার মধ্যে মালোপাড় বারোয়ারিরও প্রতিমা কদমতলা ঘাটে পৌঁছে যায়। তারপর জজ কোর্ট পাড়া বারোয়ারি, গোলাপট্টি বারোয়ারি, তাঁতিপাড়া বারোয়ারি, উকিলপাড়া বারোয়ারিও, হাতারপাড়া বারোয়ারি, নির্দিষ্ট সময়েই শহর প্রদক্ষিণ করে তাদের ভাসান প্রক্রিয়া শেষ করে।‌ পুলিসের নির্দেশ মতো কাউকেই গদা হাতে বেরতে দেখা যায়নি। এসব দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন এবছর অন্তত সঠিক সময়েই ভাসান শেষ হবে। কিন্তু, তারপর থেকেই ভাসান প্রক্রিয়ার গতি কমতে থাকে। 
ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ একটি পুজো কমিটি পোস্ট অফিস মোড়ে পৌঁছয়। তাদের সঙ্গে গদা ছিল। যা পুলিস নিষিদ্ধ করেছিল এবছর। সেই নিয়েও পুলিসের সঙ্গে একপ্রস্থ বচসা হয়। তারপর শোভাযাত্রা ছেড়ে দিতেই কয়েক হাজার লোক একসঙ্গে রাজবাড়ির উদ্দেশে দৌড়াতে শুরু করে। ঠিক তখন সেই শোভাযাত্রার ভিতরেই পুলিসের সামনে দু’জনকে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। তারপরেই পুলিস পোস্ট অফিস মোড়ে বেপরোয়া লাঠিচার্জ করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা পোস্ট অফিস মোড় চত্বর খালি করে দেওয়া হয়। ঘটনাচক্রে, সেইসময় বেশ কয়েকজন দর্শনার্থীও সামান্য জখম হন। পুজো কমিটির শোভাযাত্রাকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। তারপর পুলিসের সঙ্গে পুজো কমিটির সদস্যদের ফের একপ্রস্থ বচসা হয়। শেষপর্যন্ত ওই পুজো কমিটি কার্যত ফাঁকা রাস্তাতেই রাজবাড়ি পৌঁছয়। তারপর রাজবাড়ি থেকে কদমতলা ঘাটে যায়। সেইসময় পুলিসের সামনেই কয়েকজনকে নিষিদ্ধ গদা ঘোরাতে দেখা যায়। এমনকী আরও একটি পুজো কমিটির কাছেও এই গদা ছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ