নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কাজিপাড়াতে কিশোরকে খুনে দোষী জেঠুর আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বারাসত আদালত। সাজাপ্রাপকের নাম ইনজার নবি। বুধবার মামলার রায় শোনালেন বারাসত আদালতের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক প্রজ্ঞা গার্গী ভট্টাচার্য (হোসেন)।
জানা গিয়েছে, বারাসতের কাজিপাড়ার বাসিন্দা গোলাম নবির ১১ বছরের ছেলে ফারদিন ২০২৪ সালের ৯ জুন বিকেলে নিখোঁজ হয়। ১৩ জুন বাড়ি লাগোয়া পরিত্যক্ত শৌচাগার থেকে ফারদিনের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেহ উদ্ধারের পর ইনজার প্রচার করতে শুরু করে যে, ফারদিনকে ছেলেধরা ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলেছে। ছেলেধরা ফারদিনকে খুন করে কিডনি পাচার করেছে বলেও রটিয়ে দেয় সে। তদন্ত করে ১৯ জুন এই ঘটনায় বারাসত থানার পুলিশ নিহতের ইনজার নবিকে গ্রেফতার করে। পুলিসকে ইনজার জানায়, ৯ জুন রাতে ভাইপোকে একা পেয়ে প্রথম ঘাড়ে আঘাত করেন তিনি। এরপর ভাইপো জ্ঞান হারালে তাকে কাঁধে করে তুলে নিয়ে যান একটি ফাঁকা জায়গায়। সেখানে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় ফাঁস দেন তিনি। শেষে দেহটি টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে পরিত্যক্ত শৌচাগারে রেখে দেন।
এই মামলায় ২০ জন সাক্ষ্য দেন। ঘটনার দেড় বছরের মধ্যে জেঠুর সাজা ঘোষণা করলেন বিচারক। এদিন দুপুরে এজলাসে নিয়ে আসা হয় ইনজারকে। বিচারকের নির্দেশে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ইনজার বলেন, আমি নির্দোষ। বাড়িতে স্ত্রী ও মেয়ে রয়েছে। ঘণ্টাখানেক ধরে দু’পক্ষের আইনজীবীর সওয়াল জবাবের পর ইনজারকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছেন বিচারক।
মামলার সরকারি আইনজীবী সৌম্যজিৎ রাহা বলেন, খুনের ধারায় দোষীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা। অপহরণ ও প্রমাণ লোপাটের ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার জরিমানা। আর সাত বছরের সাজার পর শুরু হবে আমৃত্যু কারাদণ্ড। এদিকে নিহত ফারদিনের মা রুবিনা খাতুন বললেন, ফাঁসি চেয়েছিলাম। তবে ও যে সারাজীবন জেলে থাকবে, তাতে আমরা খুশি। তিনি আরও বলছেন, বারাসত আদালতের মধ্যেই আসামীর মেয়ে আমাদের ছবি তুলেছে। ফলে আতঙ্কে রয়েছি।
বারাসতের পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, কিশোর খুনের পর ছেলেধরা গুজবের বিরাট প্রভাব পড়েছিল। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। এই সাফল্য বারাসত এসডিপিও এবং আইসি সহ ফুল টিমের। সুপার আরও বললেন, আদালতে আসামীর মেয়ে নিহতের মা ও তাঁর এক আত্মীয়ের ছবি তুলেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। নিজস্ব চিত্র