Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সম্পত্তি বিবাদ, বারাসতে কিশোরকে খুনে দোষী সাব্যস্ত জেঠু, কাল সাজা

বারাসতের কাজিপাড়ায় ১১ বছরের কিশোরকে খুনে অভিযুক্ত জেঠুকে সোমবার দোষী সাব্যস্ত করল বারাসত আদালত। দোষীর নাম ইনজার নবি।

সম্পত্তি বিবাদ, বারাসতে কিশোরকে  খুনে দোষী সাব্যস্ত জেঠু, কাল সাজা
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসতের কাজিপাড়ায় ১১ বছরের কিশোরকে খুনে অভিযুক্ত জেঠুকে সোমবার দোষী সাব্যস্ত করল বারাসত আদালত। দোষীর নাম ইনজার নবি। অপহরণ, খুন ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের ধারা দেওয়া হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। আগামী কাল, বুধবার মামলার রায় শোনাবেন বারাসত আদালতের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক প্রজ্ঞা গার্গী ভট্টাচার্য (হোসেন)।

Advertisement

বারাসতের কাজিপাড়ার বাসিন্দা গোলাম নবির ১১ বছরের ছেলে ফারদিন। সম্পত্তি নিয়ে গোলামের সঙ্গে বিবাদ ছিল তার ভাই ইনজার নবির। ২০২৪ সালের ৯ জুন বিকেল থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ফারদিন। ১০ জুন বারাসত থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন বাবা। ফারদিনের তল্লাশিতে পুলিশ কুকুর নামানো হয়েছিল। ১৩ জুন বাড়ি লাগোয়া পরিত্যক্ত বাথরুমের ভিতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফারদিনের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরনে ছিল কালো রঙের হাফপ্যান্ট। দেহ উদ্ধারের পর ইনজার প্রচার করতে শুরু করে, ফারদিনকে ছেলেধরা মেরে ফেলেছে। ছেলেধরার দল ফারদিনকে খুন করে তার কিডনি পাচার করেছে। গুজব দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। সময়ের সঙ্গে ‘গুজব’ বারাসতের গণ্ডি অতিক্রম করে ভিন জেলাতেও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও তদন্ত চালিয়ে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ১৯ জুন ফারদিন খুনে বারাসত থানার পুলিশ ইনজারকে গ্রেফতার করে। পুলিশকে ইনজার জানিয়েছে, ৯ তারিখ রাতে কিশোরকে একা পেয়ে ঘাড়ে আঘাত করে। কিশোর জ্ঞান হারালে, তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে গিয়ে পাশের একটি জায়গায় রাখে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় ফাঁস দিয়ে দেয় ইনজার। তারপর দেহ টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে পরিত্যক্ত শৌচাগারে রেখে দেয়।
ট্রায়াল চলাকালীন ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে নিহতের মা রুবিনা খাতুন, বাবা গোলাম নবি সহ ময়নাতদন্তের চিকিৎসক থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ছিলেন সাক্ষীতে। সোমবার ফারদিন খুনে তারই জেঠুকে দোষী সাব্যস্ত করলেন বিচারক। বুধবার সাজা ঘোষণা। সোমবার এজলাসে হাজির ছিলেন নিহতের মা ও বাবাও। এজলাসে বসে সারাক্ষণ কেঁদে গিয়েছেন মা রুবিনা খাতুন। তিনি বলেন, নিজের লোক আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। ওর ফাঁসি চাই। বাবা গোলাম নবিরও একই কথা। বললেন, আমার দাদা এটা করতে পারে তা ভাবনাতেই ছিল না। আমাদের দু’ভাইয়ের সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ ছিল। আর অশান্তির সময় আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিল, ভয়ংকর ক্ষতি করে দেবে। আর করলও তাই। আমি ওর মৃত্যুদণ্ড চাই। এনিয়ে মামলার সরকারি আইনজীবী সৌম্যজিৎ রাহা বলেন, বিচারক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। বুধবার সাজা ঘোষণা। খুনের পর অভিযুক্ত এনজার ছেলেধরা প্রচারের ফলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। আমরা সর্বোচ্চ সাজার দাবি করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ