Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাসত থেকে পেট্রাপোল, যশোর রোড সংস্কারে ৪৩ কোটি টাকা, কাজ শুরু শীঘ্র

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে বারাসত থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পেট্রাপোল পর্যন্ত ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিল রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের ন্যাশনাল হাইওয়ে বিভাগ।

বারাসত থেকে পেট্রাপোল, যশোর রোড সংস্কারে ৪৩ কোটি টাকা, কাজ শুরু শীঘ্র
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে বারাসত থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পেট্রাপোল পর্যন্ত ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিল রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের ন্যাশনাল হাইওয়ে বিভাগ। এর জন্য ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৪৩ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই কাজের ছাড়পত্র মিলেছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে রাজ্যের জাতীয় সড়ক শাখা।

Advertisement

৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক বারাসতের ডাকবাংলো মোড় থেকে চলে গিয়েছে পেট্রাপোল সীমান্ত পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তা দিয়েই নিত্যদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। তার সঙ্গে রয়েছে লরি সহ বড় বড় পণ্যবাহী গাড়ির চাপ। কয়েক বছর আগে এই রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন জায়গা ভেঙেচুরে বেহাল হয়ে গিয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এর জেরেই ঘটছে দুর্ঘটনা। হাবড়া, অশোকনগর কিংবা গোবরডাঙায় জাতীয় সড়কের অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও বারাসত বা দত্তপুকুরে ব্ল্যাকটপের হাল উদ্বেগজনক। সদর শহর বারাসতে এই রাস্তা যেন মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিত্য ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। অবশেষে সেই যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে উদ্যোগী হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। জানা গিয়েছে, অতি দ্রুত এই রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হবে। দপ্তর সূত্রের খবর, রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার। এটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪৩ কোটি ৩৫ লক্ষ ৮৬ হাজার ৫১৪ টাকা। ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়ে গিয়েছে। 
ইঞ্জিনিয়ারদের কথায়, রাস্তায় জল জমার জন্যই দ্রুত বেহাল হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই জাতীয় সড়কে জল জমে থাকে। এর ফলে পিচের আস্তরণের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করতে না পারলে রাস্তা কখনই টেকসই হবে না। এ নিয়ে দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, এই রাস্তা সংস্কার হবে পিবিএমসি পদ্ধতিতে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মক্ষমতা অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চুক্তি করা হচ্ছে একটি এজেন্সির সঙ্গে। পরবর্তী পাঁচ বছর এই রাস্তা ওই এজেন্সি রক্ষণাবেক্ষণ করবে। পুরো দায়িত্ব ওদের। এ নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি দিয়েছিলাম। পাশাপাশি রাজ্যস্তরেও মেরামতের জন্য দরবার করেছিলাম। অবশেষে অনুমোদন মিলেছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে। মানুষ দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকেও মুক্তি পাবেন। বারাসতের বাসিন্দা চৈতি বসু বলেন, বাসে বা অটোয় চাঁপাডালি থেকে ডাকবাংলোয় আসতে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়। অবশেষে দেরিতে হলেও কাজ হবে জেনে ভালো লাগছে। তবে, এই জাতীয় সড়কের উপর একাধিক রেল গেটের কারণে যানজটে নাকাল হয় মানুষ। এটা নিয়ে প্রশাসনের ভাবা উচিত।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ