নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া শহরে নতুন করে সরকারি জায়গা জবরদখল করলে বরদাস্ত করা হবে না বলে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে। রাস্তার ধরে বা নদীর জায়গায় কোনওরকম বেআইনি নির্মাণ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার জানিয়েছেন। দু’দিন আগে গন্ধেশ্বরী নদীর চর দখল করে বেআইনি নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগ ওঠে। তাতেই পুরসভা নড়েচড়ে বসেছে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার ব্যাপারে রাজ্য সরকার সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছিল। সেইমতো আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করি। জবরদখল উচ্ছেদের জন্য অনেক হ্যাপাও পোহাতে হয়। ফলে নতুন করে সরকারি জায়গা দখল হওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়া যাবে না। এব্যাপারে শহরবাসীর কাছে আমরা আবেদন করছি।
Advertisement
এদিকে, নদীর জায়গা দখল সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাও সক্রিয় হয়েছেন। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, নদীর জায়গা দেখভালের দায়িত্ব সেচদপ্তরের। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলার জন্য ভূমিদপ্তরকে বলা হয়েছে। জেলা ও ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকরা বিষয়টি দেখছেন। গন্ধেশ্বরী নদী মজে গিয়ে একসময় কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বাঁকুড়া শহরের সতীঘাট থেকে জাতীয় সড়কের সেতু পর্যন্ত নদী গর্ভে ‘ড্রেজিং’ করা হয়। তারপর নদী কিছুটা হলেও পুনরুজ্জীবিত হয়। বর্তমানে জমি হাঙররা নদীর ওই জায়গা নতুন করে দখল করতে সচেষ্ট হয়েছে। এর আগেও সতীঘাট এলাকায় নদীর জায়গা দখল হয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ আবার প্রভাব খাটিয়ে দখলকৃত সরকারি জায়গা নিজের নামে করে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জায়গার দলিল, পরচা দেখিয়ে বাড়িঘরও তৈরি করেছে। তারপর সেখানে দিব্যি ব্যবসা, বসবাস করছে। ওইসব ঘটনায় বাম আমলে কর্মরত পুরসভা, ভূমি ও সেচদপ্তরের কর্মীদের একাংশ জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। ফলে নদীর জায়গা চিহ্নিত করতে সাবেক ম্যাপ অনুযায়ী আগাগোড়া জরিপ প্রয়োজন। দখল হয়ে যাওয়া জায়গায় তৈরি বেআইনি নির্মাণ ভেঙে নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও উঠতে শুরু করেছে। এব্যাপারে পুরসভার কাউন্সিলাররাও সরব হয়েছেন। আগামী দিনে গন্ধেশ্বরী নদী বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনে দলমত নির্বিশেষে জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামা হবে বলেও কাউন্সিলারদের একাংশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।



