Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে জনপ্রতিনিধিদেরও, নাবালিকার বিয়ে রুখতে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের

জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে জনপ্রতিনিধিদেরও, নাবালিকার বিয়ে রুখতে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বাল্যবিবাহ যেন জেলা বীরভূমের ‘অভিশাপ’! প্রশাসনের একাংশ আধিকারিকদের ঘরোয়া আলোচনায় এই আক্ষেপের কথা উঠে আসে। স্বাভাবিকভাবেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা জেলা প্রশাসনের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, বাল্যবিবাহের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া দুষ্কর। বহুক্ষেত্রেই গ্রাম-গঞ্জের নাবালিকার বিয়ের বিষয়টি নজরে এলেও নানা কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন। প্রতি বছর জেলাজুড়ে কত নাবালিকা সাত-পাঁকে বাধা পড়ছে, সেই পরিংখ্যান না থাকায় আধিকারিকরা কার্যত দিশেহারা। এই পরিস্থিতিতে এবার জেলা প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে। এবার থেকে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকার উপর নজরদারি চলবে। জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠলে তাঁকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে। এবিষয়ে শিশু নারী উন্নয়ন দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ কাবেরিকা গুইন বলেন, বাল্যবিবাহ রুখতে নিয়মিত প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে এবার একদম নিচুতলার জনপ্রতিনিধিদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত কোনও প্রকার তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠলে তাঁকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। 
Advertisement
প্রশাসনিক তথ্য অনুসারে চলতি অর্থ বর্ষের ডিসেম্বর মাস অবধি ১৩৬ জন নাবালিকার বিয়ে হয়েছে। যদিও বাস্তব চিত্র উল্টো। সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি নাবালিকা এই সময়কালে সাত-পাঁকে বাঁধা পড়েছে। খোদ কর্মাধ্যক্ষ একথা অকপটে স্বীকার করছেন। এ নিয়ে জেলায় একাধিক বৈঠকও হয়েছে। সম্প্রতি, শ্রমিক সংক্রান্ত এক শিবিরেও এনিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। সেই শিবিরেও একাধিক কর্তা এনিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। সেইসঙ্গে বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হয়। ইতিমধ্যে বীরভূম জেলাজুড়ে বাল্যবিবাহ রুখতে জেলা প্রশাসনের তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্কুল পড়ুয়াদের সচেতন করার কাজ চলছে। পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ব্লকস্তরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত পুতুল নাচের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের কুফল জন সম্মুখে তুলে ধরা হচ্ছে। যদিও বাস্তবে সেভাবে তার প্রতিফলন নজরে আসছে না। এই পরিস্থিতিতে আগামীদিনে পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ব্লক স্তরের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকের ভাবনা শুরু হয়েছে। 
চলতি বছর শিক্ষাবর্ষে জেলায় ৪৩,০১৭ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড পেয়েছে। যদিও তিন শতাংশ পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায়নি। তাঁদের একটা অংশ অকৃতকার্য। এছাড়াও অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যাই বেশি। অনুপস্থিতর কারণ হিসেবে একাধিক বিষয় থাকলেও অনেকেই বাল্যবিবাহের বিষয়টি উড়িয়ে দিতে পারছেন না। খোদ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের কর্তারাও সেই আশঙ্কায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ