নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ বারাসত পেরিয়ে কিছুটা গেলেই মোয়ার গন্ধ আর রাস্তার ধারে ঘুড়ির দোকান জানান দেয়, বহডু, জয়নগর এসে গিয়েছে। মোয়া আর গুড়ের গন্ধে ম ম করছে বাতাস। আর আকাশের দিকে তাকালেই নজরে পড়বে ঘুড়ির প্যাঁচ। শীতে এটাই সাধারণ দৃশ্য দক্ষিণ বারাসতে। সামনে মকর সংক্রান্তি। এই উপলক্ষ্যে জয়নগর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কচিকাঁচা থেকে বড়োরা মেতে উঠেছে ঘুড়ির লড়াইয়ে। গতবার ঘুড়ি, সুতো, লাটাইয়ের বিক্রি ছিল তলানিতে। কিন্তু এবার ব্যবসা চাঙা, এমনই দাবি দোকানিদের। সংক্রান্তির আগে তাই ঘুড়ি ও মাঞ্জার স্টক তৈরি করতে দোকানে দোকানে ঘুরছেন ঘুড়িপ্রেমীরা। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে এখন ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা চরমে।
জয়নগরের গঞ্জের বাজারে গিয়ে দেখা গেল, কাগজ ও প্লাস্টিকের বাহারি ঘুড়ি-লাটাই ও মাঞ্জা সুতো দিয়ে দোকান সাজিয়েছেন বাবু দাস, রাখল বর, রাহুল হালদাররা। দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড়। বিক্রেতাদের দাবি, এই বছর ঘুড়ির চাহিদা বেশ ভালো। আগে মেটিয়াবুরুজ থেকে ঘুড়ি ও মাঞ্জা কিনে আনতে হত। এখন আমরা নিজেরাই বানাই। উলটে ওইসব অঞ্চলের মানুষজন এখানে আসছেন ঘুড়ি-লাটাই কিনতে। মেটিয়াবুরুজের ঘুড়ি এখন যাচ্ছে ভিন রাজ্যে। তাই সেখানে জোগান কম। শিশু ও কিশোররা ব্যাপক উৎসাহিত। তারা আবার খেলোয়াড় থেকে ‘সিনে স্টার’দের ছবি দেওয়া ঘুড়ির প্রতি বিশেষ আকৃষ্ট। কারও ঘুড়িতে বিরাট কোহলির ছবি, কারও ঘুড়িতে রয়েছেন শাহরুখ খান।
সংক্রান্তির দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন ঘুড়ি-লাটাই ও মাঞ্জা কিনতে ঢল নামছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সংক্রান্তির অনেক আগে থেকেই জয়নগরের আকাশ ছেয়ে গিয়েছে পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতির লড়াইয়ে। সকালের দিকে কম ঘুড়ি উড়লেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ ছেয়ে যাচ্ছে ঘুড়িতে, এমনটাই দাবি বাসিন্দাদের। বড়োরা মাঞ্জা সুতো কিনলেও কিশোরদের পছন্দ সস্তার নাইলন সুতো। ঘুড়ি বিক্রেতা কালীপদ হালদার বলেন, ওদের জন্যই এই ধরনের সুতো রাখতে হয়। ১০-১৫ টাকায় এক রিল সুতো কিনে নিয়ে যায় ওরা। মাঞ্জা সুতোর দাম বেশি।