নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আড়িয়াদহের ‘ত্রাস’ জয়ন্ত সিংয়ের অট্টালিকা যে জমিতে, তার মালিক দিলীপ ও ননীগোপাল মুখোপাধ্যায়ের নামে নোটিস পাঠিয়েছিল পুরসভা। বেআইনি নির্মাণের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দেওয়া, ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ নিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়সীমা পেরলেও উত্তর আসেনি। পুরসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই বাড়িতে বসবাসকারী জয়ন্তের পরিবারকে নোটিস দিয়ে বেআইনি বাড়ি নিয়ে শুনানি করা হবে। কিন্তু ওই বাড়িতে বসবাসকারী জয়ন্ত সিংয়ের তিনভাই পুরসভার কর্মী। তার মধ্যে দু’ভাই কামারহাটি পুরসভায় কাজ করেন। তাঁরাই আবার জমি মালিকের নামে ইস্যু হওয়া নোটিস গ্রহণ করেছিলেন। পুরসভার দাবি উড়িয়ে জয়ন্তের ভাই বলছেন, জমি তাঁদের নামে। সমস্ত তথ্য পুরসভায় জমা দিয়েছেন।
জয়ন্ত এখনও জেলবন্দি। তার বেআইনি বাড়ি ভাঙা নিয়ে কয়েক মাস ধরে আইনি লড়াই চলছে। কিন্তু পুরসভার পদক্ষেপ আদালতে বার বার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ১০ জুলাই পুরসভা ওই বাড়িতে গিয়ে জমি মালিক দিলীপ মুখোপাধ্যায় ও ননীগোপাল মুখোপাধ্যায়ের নামে নোটিস দিয়েছিল। বাড়িতে থাকা জয়ন্তের ভাই প্রকাশকুমার সিং নোটিস গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কামারহাটি পুরসভার জঞ্জাল বিভাগের কর্মী। তার অপর ভাই প্রশান্ত সিং এই পুরসভার জলদপ্তরের কর্মী। প্রিয়ন্ত সিং নামে অন্য এক ভাই বরানগর পুরসভার কর্মী। তিন জনই স্থায়ী পদে কর্মরত।
আড়িয়াদহের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেআইনি বাড়ি তৈরির সময় পুরসভা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এখন আদালত ভাঙার কথা বললেও পুরসভা গড়িমসি করছে। এমনকী, জয়ন্তের দুই ভাই কামারহাটি পুরসভায় বসে আগেভাগে সমস্ত কিছু জেনে যাচ্ছেন। কোন আইনি যুক্তিতে পুরসভা বিপাকে পড়বে, বেআইনি অট্টালিকা রক্ষা পাবে, হাইকোর্টের নামকরা আইনজীবীদের নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পুরসভা ও কামারহাটির প্রভাবশালীদের থেকে পাচ্ছেন। তাঁরা পুরসভার কর্মী হয়েও বেআইনি বাড়িতে বসবাস করছেন, আবার পুরসভার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করছেন।
পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, জমির মালিকদের এখনও কোনও হদিশ নেই। দু’বার নোটিস করেও উত্তর পাওয়া যায়নি। ওই জমিতে যাঁরা বাড়ি করে রয়েছেন, তাঁদের নোটিস দিয়ে ডাকা হবে। তাঁদের উপস্থিতিতে আগামী ২৮ তারিখের বোর্ড মিটিংয়ে বেআইনি বাড়ি নিয়ে শুনানি হবে। জয়ন্তের ভাই প্রকাশকুমার সিং বলেন, জমি আমাদের নামে রয়েছে। আমরা অনেক আগে কিনেছি। চলতি সপ্তাহে আমরা পুরসভায় সমস্ত তথ্য প্রমাণ জমা দিয়েছি।