Bartaman Logo
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্গার পাশে জয়া‑বিজয়া আর ৬৪ দেবদেবী, নৈবেদ্য সাজে ৭৯টি

উত্তর কলকাতার বিডন স্ট্রিটে ‘ছাতুবাবু‑লাটুবাবু’র বাড়ির পুজোর ঐতিহ্য সুমহান

দুর্গার পাশে জয়া‑বিজয়া আর ৬৪ দেবদেবী, নৈবেদ্য সাজে ৭৯টি
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: উত্তর কলকাতার বিডন স্ট্রিটে ‘ছাতুবাবু‑লাটুবাবু’র বাড়ির পুজোর ঐতিহ্য সুমহান। বাড়িটি ‘রামদুলাল নিবাস’ নামে পরিচিত। তবে লোকমুখে ছাতুবাবু‑লাটুবাবুর বাড়ি নামেই খ্যাত। ১৭৭০ সালে এই বাড়ির পুজোর প্রবর্তন করেছিলেন ব্যবসায়ী রামদুলাল দে (দেব সরকার)।

Advertisement

এখানে দুর্গার পাশে থাকে জয়া‑঩বিজয়ার মূর্তি। প্রতিমার চালচিত্রের গঠনশৈলী চমকপ্রদ। বেশ দৃষ্টিনন্দন। দেবীর সিংহ এখানে ঘোড়ামুখী। একসময় দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হত। তা দেখতে শয়ে শহয়ে মানুষ ভিড় জমাতেন। এখন অবশ্য নীলকণ্ঠ ওড়ানো হয় না। ছাতুবাবুর বাড়ির প্রতিমার কাঠামো পুজো হয় রথের দিন। পুজোয় চালকুমড়ো, আখ বলি দেওয়া হয়। একসময় পাঁঠা বলিও হত। কথিত, একবার দুর্গাপুজোর বলিপ্রদত্ত পাঁঠা ছুটে চলে গিয়েছিল বাড়ির কর্তা রামদুলালের কাছে। তারপর পুজোয় এই প্রথা বন্ধ করা হয়। একসময় বাড়িতে ভিয়েন বসত। তৈরি হত নানা ধরনের মিষ্টি ও নোনতা খাবার। ভিয়েন এখনও বসে। তৈরি হয় বোঁদে, লেডিকেনি ও অন্য্যান্য মিষ্টান্ন।
এই বনেদি বাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাকে দশমহাবিদ্যা রূপে পুজো করা হয়। মহালয়ার পর প্রতিপদ থেকে শুরু পুজো। চলে দশদিন। অন্নভোগ হয় না। ফলমূল, নানা ধরনের মিষ্টি সহযোগে নৈবেদ্য সাজানো হয়। পুজোয় ৬৪দেবদেবীর পুজো করার রীতি। পুজো পান পঞ্চদেবতা নবগ্রহ। মোট ৭৯টি নৈবেদ্য পড়ে। দুর্গার ভোগে থাকে লুচি, নানারকমের ভাজা ও একাধিক মিষ্টি। মহাঅষ্টমীতে তাকে খাওয়া‑দাওয়ার বিপুল আয়োজন। ভোজে অংশ নেন বাড়ির লোকজন ও অন্যান্য মানুষ। দশমীতে সাধারণত অন্যান্য জায়গায় সিঁদুর খেলা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রথা মেনে ছাতুবাবুর বাড়ি অষ্টমীর দিন সিঁদুর খেলা হয়। দুর্গাকে কাঁধে চাপিয়ে গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়ার রীতি।
এ বাড়ির দুর্গাদালান, একাধিক ঝাড়বাতি চোখ ধাঁধানো শোভা তৈরি করে। মণ্ডপে এখন তৈরি হচ্ছে বাড়ির প্রতিমা। রয়েছে দেবীকে বসানোর বিশাল সিংহাসন। যিনি পুজোর সুচনা করেছিলেন সেই রামদুলাল দে’র ইতিহাসও কম আকর্ষণীয় নয়। জানা যায়, হিন্দু কলেজ তৈরির ক্ষেত্রে মোটা টাকা অনুদান দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর নামে একসময় একটি জাহাজের নামকরণ হয়েছিল। যে জাহাজটি কিছু সময় ধরে বস্টন থেকে কলকাতা যাতায়াত করেছে। সেই সময় তিনি ছিলেন কলকাতা শহরের অন্যতম ধনী ব্যক্তি।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ