Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রোগীর মেয়েকে হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রেপ্তার জওয়ান, আর জি করের রক্ষকই ভক্ষক

আর জি কর হাসপাতালে রোগীর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে সিআইএসএফ জওয়ান পারুল আহমেদ গ্রেপ্তার। তদন্ত চলছে, বিস্তারিত পড়ুন।

রোগীর মেয়েকে হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগ  গ্রেপ্তার জওয়ান, আর জি করের রক্ষকই ভক্ষক
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নৃশংস অভয়াকাণ্ডের কথা আজও সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রাই। মিলেছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আদালতের নির্দেশে আর জি কর মেডিকেল কলেজে বসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্প। তারপর রাজ্যে পালাবদলও হয়েছে। এমনকি সুবিচার মেলেনি—দাবি তুলে সদ্য ভোটে জিতে বিধায়ক পর্যন্ত হয়েছেন অভয়ার মা। কিন্তু আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। বরং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্পে থাকা রক্ষকই এখন ভক্ষক। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর মেয়েকে হোটেলে ডেকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল ‘আর জি করের পাহারাদার’ সিআইএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে। শুধু ধর্ষণেই ক্ষান্ত হয়নি সে। ধর্ষণের ভিডিয়ো স্মার্টফোনবন্দি করে রীতিমতো ব্ল্যাকমেল করা হয় ওই তরুণীকে। তার জেরে আরও দু’বার ওই জওয়ানের লালসার শিকার হতে হয়। শেষপর্যন্ত অবশ্য সাহস সঞ্চয় করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা। লিখিত অভিযোগ পেয়েই অবশ্য দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে বিধাননগর কমিশনারেটের অধীন নারায়ণপুর থানা। অভিযুক্ত জওয়ান এখন শ্রীঘরে!

Advertisement

মঙ্গলবার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কমিশনারেটের এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃত সিআইএসএফ জওয়ানের নাম পারুল আহমেদ। তিনি বর্তমানে আর জি কর হাসপাতালের ক্যাম্পেই কর্মরত। যেহেতু জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত, তাই তাঁকে গ্রেপ্তারের পর সিআইএসএফ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। তদন্ত চলছে।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি কর হাসপাতালে নৃশংসভাবে ধর্ষণ এবং খুন করা হয় এক চিকিৎসক পড়ুয়াকে। সেই ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল সারা রাজ্য। পুলিশের হাত থেকে তদন্ত গিয়েছিল সিবিআইয়ের হাতে। তবে, পুলিশ যাকে গ্রেপ্তার করেছিল, সেই সঞ্জয় ছাড়া আর কাউকে জেলে পোরা যায়নি। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা খাটছে সঞ্জয়। ভোটের মুখে আর জি কর-কাণ্ডের ফাইল খোলার আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু  পালাবদলের পরও নারীসুরক্ষা যে শুধু প্রচারেই, এই ঘটনা সামনে আসাতেই তা স্পষ্ট।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার বাড়ি নারায়ণপুর থানা এলাকায়। মা অসুস্থ। তাই মায়ের চিকিৎসার জন্য তিনি নিয়মিত আর জি কর হাসপাতালে যাতায়াত করতেন। সেখানেই একদিন হঠাৎ তরুণীর সঙ্গে পরিচয় করে ওই জওয়ান। নিরাপত্তারক্ষীর পোশাক দেখে স্বাভাবিকভাবেই ভয় পাননি তরুণী। বরং ওই জওয়ান মোবাইল নম্বর চাওয়ায় তা দিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু, নানা অছিলায় তারপর থেকে ফোন করত পারুল। এমনকি ‘প্রেমের ফাঁদ’ পেতে তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিল। দেখা করার জন্য ডেকে পাঠিয়েছিল  চিনার পার্কে। অভিযোগ, সেখানেই একটি হোটেলে নিয়ে তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ওই জওয়ান। সেই ভিডিয়ো দেখিয়ে পরে ব্ল্যাকমেল, ফের ধর্ষণ, এমনকি মারধরও করা হয় নির্যাতিতাকে। কয়েকদিন পর তিনি গোটা বিষয়টি জানান পরিবারকে। তারপরই, গত ৮ জুন নারায়ণপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরদিনই অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তের জন্য তাঁকে পুলিশ হেপাজতে নেওয়া হয়। আজ, বুধবার তাঁকে ফের বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীদের তরফে ধর্ষণের একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নির্যাতিতার পোশাকে মিলেছে রক্তের দাগও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ