Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলের পা‌‌ইপ লিক করেই দুর্গাপুর ও আসানসোলে জন্ডিস বাড়বাড়ন্ত

জলের পা‌‌ইপ লিক করেই দুর্গাপুর ও আসানসোলে জন্ডিস বাড়বাড়ন্ত
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: প্রখর গ্রীষ্মে পুড়ছে শিল্পাঞ্চল। বর্ষা আসতে ঢের বাকি। তারই মাঝে জলবাহিত রোগে জেরবার পশ্চিম বর্ধমান জেলা। হেপাটাইটিস-এ জন্ডিস হয় জলের সংক্রমণ থেকেই। জল সংক্রমণের জেরে আসানসোল দক্ষিণের ডামরা, হীরাপুরের পুরানহাট ও দুর্গাপুরের হরিবাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল এই রোগ। জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠায় স্বাস্থ্যদপ্তর। সেখানে প্রমাণ মিলেছে, পাইপ লা‌ই঩নের মাধ্যমে আসা পরিশ্রুত পানীয় জলেই মিশছে ‘বিষ’। স্বাস্থ্যদপ্তরের থেকে সেই তথ্য পেতে‌ই পুরসভাগুলিকে সতর্ক করেছেন জেলাশাসক। আসানসোল ও দুর্গাপুর, এই দুই পুরসভাকে বাড়তি নজরদারি করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, গ্রামীণ এলাকায় জল সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পিএইচইকেও সতর্ক করা হয়েছে।

Advertisement

গত মাসেই জন্ডিস সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল দুর্গাপুরের হরিবাজার এলাকায়। প্রায় ৩০জনকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ৫০এরও বেশি। এই অবস্থায় রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রতিনিধিরা এলাকায় এসে সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করেন। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করে। সেই সময়ে এলাকাবাসীর পানীয় জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। 
স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, দেখা গিয়েছে, পাইপ লাইনের লিকেজের জন্য পানীয় জলের সঙ্গে নোঙরা জল মিশে যাওয়ায় এই বিপত্তি হয়েছিল। সেই বিষয়টি সামাল দিতে না দিতেই একই ঘটনা ঘটে হীরাপুর থানার পুরানহাট এলাকায়। সেখানেও হেপাটাইটিস-এ আক্রান্ত হন ২৪জন। তার মধ্যে ১০জনকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। সেখানেও পানীয় জল থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল বলে স্বাস্থ্যদপ্তর জানতে পেরেছে। শুধু এই দু’টি ঘটনাই নয়, আসানসোল দক্ষিণ থানার ডামরাতেও জন্ডিসের প্রকোপ ধরা পড়েছিল বলে স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি। এই অবস্থায় পানীয় জলের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে বর্ষার আ঩গেই যেভাবে পানীয় জলে দূষণ ছড়াচ্ছে, এখনই নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে যাবে। ডিস্ট্রিক্ট লেভেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মনিটারিং কমিটির বৈঠকে বিষয়টি তোলেন জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস। তারপরই সরব হন জেলাশাসক পোন্নমবলম এস। তিনি বিষয়টি নিয়ে পুরসভাগুলিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন। যাতে পাইপ লাইনে লিকেজ থাকছে কি না, তা দ্রুত নজরে আসে। একই নির্দেশ দেওয়া হয় জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের আধিকারিকদেরও। জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস বলেন, পানীয় জলের সরবরাহ থেকে সংক্রমণ ছড়ায়। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, জেলাশাসক সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। জল নিয়ে প্রশাসনের কর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হলেও জামুড়িয়ার ক্ষেত্রে কিন্তু অবস্থার বদল হয়নি। 
আসানসোল পুরসভার অন্তর্গত এই শহরে বেশ কিছুদিন ধরেই পা‌ইপ লাইনের মাধ্যমে দূষিত জল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানা যায়, একটি কোলিয়ারি থেকে অজয় নদে দূষিত জল ফেলা হচ্ছে। সেই জল মিশছে দরবারডাঙা জলপ্রকল্পে। যার জেরে জামুড়িয়ায় বাড়ি বাড়ি অপরিষ্কার জল ছড়িয়ে পড়ছে। জামুড়িয়ার বরো চেয়ারম্যান শেখ সান্দার বলেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মানুষের ক্ষোভ সামলানো যাবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ