ডালাস: দু’বার পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত কামব্যাক কুবো, কেইটোদের। কমলা ঝড় রুখে নিজেদের ওজন বোঝাল জাপান। ডালাসে নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচের ফল ২-২। অনেকেই ভেবেছিলেন, গ্রুপ-এফ থেকে ডাচদের পরের রাউন্ডে পৌঁছানো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। সেই ভাবনা আপাতত চৌপাট। অন্য ম্যাচে তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। ফলে প্রথম ম্যাচের পর সুইডিশরাই গ্রুপ শীর্ষে।
জোহান ক্রুয়েফের দেশ টোটাল ফুটবলের জনক। বিশ্বকাপ না পেলেও প্রত্যাশা বরাবরই আকাশচুম্বী। শুরুটা মন্দ করেনি ওলন্দাজরা। তৃতীয় মিনিটে চমৎকার টার্ন করে শট নিয়েছিলেন মালেন। নিশ্চিত গোল বাঁচান জাপান গোলরক্ষক সুজুকি। কিন্তু শুরুর স্পার্ক এরপরেই উধাও। কোচ রোনাল্ড কোম্যান দল সাজিয়েছিলেন ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। ঘর গুছিয়ে আক্রমণে ওঠাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। এই পর্বে গাকপো ও সামারভিলের মধ্যে বাড়তি প্রচেষ্টা দেখা গেল।
৫১ মিনিটে ফন ডিকের গোলে লিড নেয় নেদারল্যান্ডস (১-০)। প্রায় বিনা বাধায় দেখেশুনে হেড করে জাল কাঁপালেন দীর্ঘকায় তারকা ডিফেন্ডার। ছ’মিনিটের বেশি ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি কোম্যানের দল। বক্সের বাইরে থেকে স্ন্যাপ শটে ১-১ করেন নাকামুরা। এরপর ফ্র্যাঙ্কি ডে’জং নিজের চৌহদ্দি ছেড়ে বেরতে নেদারল্যান্ডস কিছুটা চাপ বাড়ায়। ৬৪ মিনিটে বাঁ পায়ের ইনস্যুইং মেশানো শটে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন উইং হাফ সামারভিল (২-১)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় আসেনি। কুবো, ইতো, ইতোরা দ্রুতগতির উইঙ্গার। ডাগ-আউটের সিগনাল পেতেই ঝাঁপালেন তাঁরা। দু’প্রান্ত থেকে গতির ঝড় সামলাতে তখন হিমশিম খাচ্ছে ডাচ রক্ষণ। ৮৯ মিনিটে অনেকটা স্পটজাম্প করে হেডে সমতা ফেরান দাইচি কামাডা (২-২)। ডাচেদের যাবতীয় জারিজুরি ওখানেই শেষ। ফিফা র্যাংকিংয়ে ৮ নম্বরে থাকা ডাচদের বিরুদ্ধে জাপানের লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি তাঁদের প্রশ্ন জোহান ক্রুয়েফ, রেনসেনব্রিঙ্ক, গুলিত, বাস্তেন, রাইকার্ড, ফন পার্সির দেশে স্কোরার কোথায়? পরিবর্ত হিসাবে নামা মেম্ফিস ডিপে ম্রিয়মান। ম্যাচ জেতার জন্য কোচ কোম্যানও সাহসী হতে পারলেন না।