Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মদ্যপ স্বামীর অত্যাচার, নাকি স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কাঁটা সরাতেই খুন, প্রশ্ন

স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কই কি জাঙ্গিপাড়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ? মৃত রবীন রুইদাসের পরিবারের অভিযোগে এমন তথ্যই উঠে আসছে। শ্বশুরবাড়িতেই স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালক ও ভায়রাভাইয়ের হাতে গত ১৩ মে খুন হন চণ্ডীতলার বাসিন্দা রবীন রুইদাস।

মদ্যপ স্বামীর অত্যাচার, নাকি স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কাঁটা সরাতেই খুন, প্রশ্ন
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কই কি জাঙ্গিপাড়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ? মৃত রবীন রুইদাসের পরিবারের অভিযোগে এমন তথ্যই উঠে আসছে। শ্বশুরবাড়িতেই স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালক ও ভায়রাভাইয়ের হাতে গত ১৩ মে খুন হন চণ্ডীতলার বাসিন্দা রবীন রুইদাস। ৪০ দিন পর তাঁর দেহ উদ্ধার হয় ধানখেতের নলকূপ থেকে।

Advertisement

পুলিসি জেরায় খুনের কারণ হিসেবে স্ত্রী অপর্ণা স্বামীর অত্যাচারকেই দায়ী করেছে। এ বিষয়ে অবশ্য ভিন্ন বক্তব্য রবীনের বউদি শিখা রুইদাসের। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে দেওরের বিয়ে হয়। তখন ও খুব একটা নেশা করত না। পরে মুম্বইয়ে কাজ নিয়ে চলে যায়। মাঝে মাঝে বাড়ি আসত। পরে এক সময় মুম্বইয়ের পাট চুকিয়ে এখানে চলে এসে দিনমজুরের কাজ শুরু করে। শ্বশুরবাড়ির দাবি ঠিক নয়, বরং ওরাই অত্যাচার করত রবীনের উপর। মদের নেশা ছাড়াতে বিভিন্ন ওষুধ খাওয়াত। এরপর নার্ভের সমস্যা দেখা দেয়। অপর্ণাকে নিজের বোনের মতো আগলে রেখেছিলাম। ওর বাবা কয়েক বছর আগে পুলিসকে সঙ্গে করে নিয়ে এসে সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়। একইসঙ্গে ওই বাড়িতে চলে যায় অপর্ণা ও তার দুই সন্তান। ছেলে-মেয়ের টানে দেওর মাঝে মাঝে ওই বাড়িতে যেত। ১১ মে থেকে দেওরের আর খোঁজ পাইনি। ১৩ মে আমরা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করি। রবীনকে যে খুন করা হয়েছে, তা জানতে পারি পরে। ২১ জুন খুনের আমরা অভিযোগ জানাই। অপর্ণাকে ফোন করলে বলে, নিখোঁজের বিষয়ে সে কিছু জানে না। অথচ ১২ মে রাতেই খুন হয় রবীনকে।’ 
রবীনের আরেক বউদি টুম্পা রুইদাস আরও একধাপ এগিয়ে অপর্ণার বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার জা অপর্ণার সঙ্গে এক ব্যক্তির সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ওর বোনের স্বামী প্রদীপ পাত্রর সঙ্গেও সম্পর্ক আছে বলে শুনেছি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রবীনের সঙ্গে প্রায়ই ঝামেলা হতো জা’য়ের। শুনেছি, নেশাগ্রস্তকে রবীনকে জাঙ্গিপাড়া থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল প্রদীপ। তারপর মারধর করার পর গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়। নিজের কাছের কাউকে বাঁচাতেই অপর্ণা এই খুনের দায় নিজের উপর নিচ্ছে। প্রদীপ বলেছে, আমাকে সন্দেহ করত, তাই খুন করেছি। শুধুই কি সন্দেহ? নাকি সত্যি ঘটনা?’
মৃতের পরিবারের কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে আরও একজন। তার নাম পুলিসকে জানালেও তদন্তকারীরা তা প্রকাশ করেননি। সাময়িক উত্তেজনায় খুন, নাকি সবটাই পূর্বপরিকল্পিত, তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিস। মৃত্যুর ৪০ দিন পর উদ্ধার হয়েছিল রবীনের কঙ্কালসার দেহ। এই অবস্থায় দেহ শনাক্তকরণে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে পুলিস। আজ, বুধবার ঘটনাস্থলে অভিযুক্তদের নিয়ে গিয়ে ঘটনা পুনর্নির্মাণ করতে পারে পুলিস। স্বামীর উপর রাগ, নাকি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কাঁটা সরাতেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে অপর্ণা, তদন্ত শেষ হলেই তা স্পষ্ট হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ