সংবাদদাতা, তারকেশ্বর, উলুবেড়িয়া ও বসিরহাট: বর্যার দুই জেলায় দামোদরের দুইরকম চিত্র। হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় ডিভিসির ছাড়া জলে ভেসে গিয়েছে কিছু গ্রাম। অন্যদিকে হাওড়ার উদয়নায়ারণপুর এবং আমতায় জল কিছুটা কমেছে। জাঙ্গিপাড়া বিধানসভা এলাকার রসিদপুর ও রাজবলহাট পঞ্চায়েতে গ্রামগুলির মধ্যে আঁকনা, সেনপুর, ছিটঘোলা, বৃন্দাবনচকের একাংশ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্ধ রয়েছে স্কুল। শুক্রবারের তুলনায় শনিবার সকালে জলস্তর কিছুটা কম ছিল। তবে ডিভিসি ফের জল ছাড়ার ফলে শনিবার রাতে নতুন করে জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। গ্রামের মধ্যে নৌকা করে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। স্কুল বা উঁচু জায়গায় রান্না করে খাওয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের অফিসাররাও পৌঁছে যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি।
শনিবার বন্যা কবলিত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যান জাঙ্গিপাড়ার বিধায়ক প্রসেনজিৎ বাগ। প্রসেনজিৎবাবু জানান, দুই হাজারের বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। পাঁচ হাজার বিঘার উপর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ১০০টি গোরু ও প্রায় ২০০টি ছাগলকে নিরাপদ আশ্রয় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধও মজুত করা আছে।
তবে শনিবার সকালে ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ কমানোয় উদয়নারায়ণপুর ও আমতা ২ ব্লকে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও একাধিক ত্রাণ শিবিরে মানুষজন আছেন। এদিন উদয়নারায়ণপুরের পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন উলুবেড়িয়ার মহকুমা শাসক মানসকুমার মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেচদপ্তরের অফিসাররা। আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত বলেন, ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। অনেক জায়গা থেকে জল নামছে। প্রসঙ্গত, ডিভিস দফায় দফায় জল ছাড়ার ফলে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই উদয়নারায়ণপুরে দামোদরের বাঁধ টপকে গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করে। তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। অন্যদিকে, মুণ্ডেশ্বরীর জলে আমতা ২ ব্লকে দ্বীপাঞ্চলের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়।
অন্যদিকে, টানা কয়েকদিন বৃষ্টির ফলে নদীর জলের চাপ বেড়েছে। সেই জল এবং তার সঙ্গে নদীতে থাকা কচুরিপানার চাপে এদিন ইছামতীর উপর একটি বাঁশের সেতু ভেঙে ভেসে যায়। স্বরূপনগর ব্লকের টিপি গ্রাম থেকে কাঁটাবাগান যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম এই বাঁশের সেতু। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় কাঁটাবাগান এলাকার একাধিক স্কুল, হাসপাতাল বা অফিসে যেতে গেলে প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত এই সেতু মেরামতি করা হোক। বিষয়টি নিয়ে স্বরূপনগরের বিধায়ক বীণা মণ্ডল বলেন, এলাকাবাসীদের কাছে বিষয়টি শুনেছি। দ্রুত এই সেতুটি নির্মাণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে, দ্রুত এই সেতুটি নির্মাণ করে
দেওয়া হবে।