সুমন তেওয়ার, আসানসোল: দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে ব্যবসা না করতে দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামুড়িয়ায় শোরগোল ফেলে দিলেন বিজেপি নেতা।
সুমন তেওয়ার, আসানসোল: দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে ব্যবসা না করতে দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামুড়িয়ায় শোরগোল ফেলে দিলেন বিজেপি নেতা।
মুকেশ শর্মা নামে ওই নেতা বুথ সভাপতি থাকা থেকে শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ সংগঠনের একাধিক দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি জামুড়িয়ার নামকরাও ব্যবসায়ীও। বিভিন্ন কারখানায় বালি, পাথর সরবরাহ করেন। এহেন বিজেপির ব্যবসায়ী নেতার দাবি, ‘জামুড়িয়ার বিজেপি বিধায়ক কোনো কাজের নন। তৃণমূল আমলে আমাকে দেড় বছর কাজ করতে দেওয়া হয়নি। আমাদের সরকার আসার পরও কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’ তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূল ও সিপিএম করা লোকজনই ব্যবসার কাজ করছে। আমাদের মতো বিজেপি নেতা-কর্মীরাই কাজ করতে পারছেন না। সমস্যার সমাধানে বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তাঁর পিএ অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। পুরো বিষয়টি আমি মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য সভাপতি, জেলা সভাপতিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
মুকেশবাবুর আদি বাড়ি রাজস্থানে। ব্যবসা না করতে পেরে তিনি বেশ হতাশ। এদিন বলছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা থেকে লোন নিয়েই ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এভাবে আমাকে কাজ করতে দেওয়া না হলে লোনের টাকা শোধ করতে পারব না। বাধ্য হয়ে আমাকে জামুড়িয়া ছেড়ে রাজস্থান ফিরে যেতে হবে।’
মুকেশবাবুর অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন বিধায়ক। মঙ্গলবার রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজনবাবু বলেছেন, ‘কে কোথায় ব্যবসা করবে, সেটা তাঁর স্বাধীনতা। উনি আমাকে বলেছিলেন সব কারখানাকে বলে দিতে হবে, যেন ওঁর কাছ থেকেই বালি, পাথর নেয়। আমি তাতে রাজি হইনি। আমি এভাবে কোনো ব্যবসায়ীকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘উনি নিজেকে বড় বিজেপি নেতা দাবি করেছেন। অথচ, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হরেরাম সিংহের ছেলের সঙ্গে একাধিক ছবিতে ওঁকে দেখা গিয়েছে। উনি হয়তো বিজেপি নেতা হয়ে তৃণমূল বিধায়কের সাহায্যে ব্যবসা করতেন।’
জামুড়িয়ায় একদিকে যখন বিজেপি ব্যবসায়ী ও বিধায়ক দ্বন্দ তুঙ্গে, তখনই গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন দলের সংখ্যালঘু মোর্চার বিবাদ। জামুড়িয়া ১ মণ্ডলের মোর্চা এখন কার্যত দু’ভাগ। এক পক্ষের কর্মসূচিতে অন্যপক্ষ যায় না। অনেকেরই অভিযোগ, জামুড়িয়ার দেশেরমোহনের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া অজয় নদীর বালি নিয়ে বিজেপির অন্দরে ব্যাপক দ্বন্দ চলছে। সেই দ্বন্দের আবহে বিজেপি মাইনোরিটি মোর্চার পাঁচ কার্যকর্তাকে বহিষ্কার করেছে দল। তাঁদের মধ্যে মণ্ডলের সহ সভাপতি, দু’জন মণ্ডল সম্পাদক সহ মণ্ডলের মাইনোরেটি মোর্চার উচ্চপদের নেতারা রয়েছেন। বিজেপি মাইনোরিটি মোর্চার জেলা সভানেত্রী নাজনিন সাবিহা বলেন, ‘দল বিরোধী কাজের জন্য পাঁচজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ সবমিলিয়ে গৃহযুদ্ধে জেরবার জামুড়িয়ার গেরুয়া শিবির।