নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর তৈরি হয়েছে রেলওয়ে ওভারব্রিজ। একটি পাণ্ডবেশ্বরে, অন্যটি জামুড়িয়ার তপসিতে। গত বছরই ব্রিজ চালু হয়ে যায়। শুরু হয়ে গিয়েছে যাতায়াতও। সাতমাস পর সেই ব্রিজেরই ঘটা করে উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি। যা নিয়ে কটাক্ষের সুর তৃণমূল কংগ্রেসের গলায়।
৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের পাণ্ডবেশ্বর ও তপসি রেল গেটে নিত্যদিন সাধারণ মানুষকে হয়রান হতে হতো। যানজটে কালঘাম ছুটত। প্রচুর দুর্ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর জাতীয় সড়কে রেলওয়ে ওভারব্রিজ তৈরি হয়। রাজ্য পূর্তদপ্তরের এনএইচ ডিভিশন এই কাজ করেছে। সেই সময় দায়িত্বে থাকা পূর্তদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, গত বছর ডিসেম্বর মাসেই আমরা দু’টি রেলওয়ে ওভারব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার চূড়ান্ত শংসাপত্র পেয়ে গিয়েছিলাম। তারপর ব্রিজগুলি সাধারণ মানুষ ব্যবহার শুরু করেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তপসি ব্রিজটির জন্য ১৪১ কোটি টাকা ও পাণ্ডবেশ্বর ব্রিজের জন্য ২৪৩.১ কোটি টাকা খরচ হয়। ডিসেম্বর মাসেই ক্লোজ চ্যাপ্টার হয়ে গিয়েছে। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে তারই উদ্বোধন করতে চলেছেন মোদি। ফলে ফের এই দুই আরওবি চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এছাড়াও ১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা খরচে দুর্গাপুর হলদিয়া গেইলের গ্যাস পাইপলাইন, ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকায় বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় সিটি গ্যাস প্রজেক্ট, পুরুলিয়া কোটশিলা ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের ডবল লাইনের তিনি সূচনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন বিতর্কের মধ্যেই সভায় লোক ভারনো নিয়েও অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে লোক আনার পাশাপাশি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মী আধিকারিক, এমনকী গ্যাস ডিলারদের লোক নিয়ে যেতে বলা হচ্ছে। দুর্গাপুরের এলপিজি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটার সুদীপ মজুমদার বলেন, আমাদের ২৫ জন ডিস্ট্রিবিউটারকে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, আরওবি নির্মাণে রাজ্যেরও অর্থ রয়েছে। সাত মাস আগে চালু হয়ে যাওয়া আরওবি উদ্বোধন করে উনি মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন। ভিন রাজ্য, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার লোক এনে মাঠ ভরাতে চাইছে বিজেপি।
বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, তৃণমূল ভয় পেয়েছে। মানুষের জানা প্রয়োজন আরওবি কেন্দ্রীয় সরকার করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সভায় জনপ্লাবন হবে।মোদির সভা ঘিরে ফের আশায় বুক বাঁধছেন শিল্পাঞ্চলবাসী। তাঁরা চাইছেন, প্রধানমন্ত্রী এই সভা থেকে আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে পুরনো কারখানা খোলা, নতুন কারখানার বিষয়ে দিশা দেখান। এমএএমসি কারখানার বর্ষীয়ান শ্রমিক নেতা অসীম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ইসিএলের কয়লা খনি এখন মেশিন নির্ভর। সেই সব মেশিনই আমাদের কারখানার তৈরি হতো। এনিয়ে মোদিজিকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। আশা করি উনি সভা থেকে কোনও সদর্থক কথা বলবেন।