নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বক্সের মাথা থেকে জাভি হার্নান্ডেজের বাঁ পায়ের শট জালে জড়াতেই সাইডলাইনে বাঁধনছাড়া উচ্ছ্বাস কোচ খালিদ জামিলের। শান্ত স্বভাবের মুম্বইকরকে এভাবে আবেগে ভাসতে খুব কমই দেখা যায়। প্রথম ভারতীয় কোচ হিসেবে আইএসএলের সেমি-ফাইনালে ঘরের মাঠে জয়ের খুশি ঢাকতে পারেননি তিনি। বৃহস্পতিবার আইএসএলের প্রথম লেগে ঘরের মাঠে মোহন বাগানকে ২-১ ব্যবধানে হারাল জামশেদপুর। জাভির পাশাপাশি জেএফসি’র হয়ে জাল কাঁপান সিভেরিও তোরো। মোহন বাগানের একমাত্র গোলটি জেসন কামিংসের। আগামী ৭ এপ্রিল ফিরতি লেগে যুবভারতীতে ফের মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে কার্ড সমস্যায় সেই ম্যাচে এজে, মোবাসির ও আশুতোষকে পাবে না জামশেদপুর। সরাসরি ফাইনালে পৌঁছতে হলে সেই ম্যাচে দু’গোলের ব্যবধানে জিততে হবে মোলিনা ব্রিগেডকে। আর এক গোলের ব্যবধান হলে ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে।
চোটের জন্য মনবীর সিং ও আপুইয়াকে পায়নি মোহন বাগান। একইসঙ্গে ম্যাকলারেন ও দিমিত্রিকে বেঞ্চে রেখে দল সাজিয়েছিলেন হোসে মোলিনা। পক্ষান্তরে, রক্ষণ আঁটসাঁট রাখতে চার ডিফেন্ডারের সামনে তিন মিডফিল্ডার রেখে ৪-৩-১-২ ফর্মেশনে দল সাজান খালিদ জামিল। একটাই লক্ষ্য, ঘরের মাঠ দুর্গ অক্ষত রেখে কাউন্টার অ্যাটাকে মোহন বাগানের উপর চাপ বাড়ানো। শুরুতেই বক্সের মধ্যে আশিস রাইয়ের হাতে বল লাগলেও নিশ্চিত পেনাল্টির হাত থেকে বঞ্চিত হয় খালিদ-ব্রিগেড।
চলতি আইএসএলে সেটপিস থেকে একাধিক গোল তুলে নিয়েছে জামশেদপুর। এদিনও আরও একবার সেই অস্ত্রের মোহন বাগান রক্ষণে ফাটল ধরাল তারা। ২৪ মিনিটে মহম্মদ উভেসের লম্বা থ্রো থেকে ব্যাক হেড করেন এজে। সেই বল ফলো করে হেডে জাল কাঁপান সিভেরিও (১-০)। দায় এড়াতে পারেননা শুভাশিস ও লিস্টন। অ্যাওয়ে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় মোহন বাগান। ৩৪ মিনিটে স্টুয়ার্টের ফ্রি-কিক থেকে আলবার্তোর হেড ক্রসবারে ধাক্কা লাগে। দু’মিনিট বাদেই কামিংসকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন আশুতোষ মেহতা। তবে রেফারি লাল কার্ডও দেখাতে পারতেন। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে অসাধারণ ফ্রি-কিকে জাল কাঁপান কামিংস (১-১)।
দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণে লোক বাড়িয়ে লকগেট ফেলে দেন খালিদ। এই পর্বে সাহাল, কামিংসরা বিপক্ষকে ফালাফালা করেও গোল করতে ব্যর্থ। ৫১ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন স্টুয়ার্ট। শেষ ১৫ মিনিটে ম্যাকলারেন ও পেত্রাতোসকে মাঠে নামান মোলিনা। তবে একটা লাভ হয়নি। বরং সংযোজিত সময়ে জাভির গোল দু’দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। বাঁদিক থেকে প্রতি-আক্রমণে আসেন ঋত্বিক দাস। তাঁর মাপা পাস থেকে দুরন্ত শটে জাল কাঁপান বাগানের প্রাক্তনী (২-১)। অ্যাওয়ে ম্যাচে হেরে কিছুটা হলেও চাপ বাড়ল মোলিনা-ব্রিগেডের। এদিকে, ম্যাচ শেষে উত্তেজনা ছড়ায় গ্যালারিতে। পুলিসের লাঠিচার্জে আহত হন এক মোহন বাগান সমর্থক।
মোহন বাগান: বিশাল, আশিস, আলড্রেড, আলবার্তো, শুভাশিস, সাহাল (আশিক), দীপক, অনিরুদ্ধ, লিস্টন, স্টুয়ার্ট (ম্যাকলারেন) ও কামিংস (পেত্রাতোস)।



