নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছরে ২ কোটির বেশি পর্যটক যান কাশ্মীরে। ভূস্বর্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পশ্চিমবঙ্গ থেকেই প্রতি বছর যান ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ পর্যটক। কিন্তু তাঁরা কোনও বিপদে পড়লে সাহায্য চাইবেন কার কাছে? পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর এই প্রশ্নই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। কারণ, জম্মু-কাশ্মীর পুলিসের
তরফে পর্যটকদের জন্য দেওয়া বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরের কোনও অস্তিত্বই নেই! বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিসের ওয়েবসাইট থেকে নম্বর নিয়ে একাধিকবার ফোন করেও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ আটকে পড়া পর্যটকদের। জম্মু-কাশ্মীর পুলিসের ট্যুরিজম রিসেপশন সেন্টারের দু’টি নম্বরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যে কোনও সময় এবং যে কোনও সমস্যায় ফোন করলে সাহায্য পাওয়ার কথা পর্যটকদের। অথচ, দু’টি নম্বরে ফোন করলেই উল্টোদিক থেকে ভেসে আসছে একটাই কথা—‘এই নম্বরের কোনও অস্তিত্ব নেই।’
রাজ্যের বিভিন্ন ট্রাভেল সংস্থার সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর যেসব পর্যটক পৌঁছেছিলেন, দ্রুত নেমে এসে তাঁদের আশ্রয় নিতে হয়েছে সেখানকার হোটেলে। দোকানপাট সব বন্ধ। দ্রুত এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে যৌথ বাহিনী। কিন্তু কীভাবে তাঁরা ফিরবেন নিরাপদ আশ্রয়ে? কোন রাস্তা খোলা রয়েছে? এই অবস্থায় রাস্তায় বেরনো আদৌ কতটা নিরাপদ? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতেই খোঁজ শুরু হয় জম্মু-কাশ্মীরের ওয়েবসাইটে। সেখানে পর্যটকদের জন্য দেওয়া ‘অ্যাডভাইজারি’তে এমন পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে কিছুই বলা নেই। যে দু’টি নম্বর দেওয়া রয়েছে, সেগুলির কোনও অস্তিত্ব নেই। রাজ্যের একটি ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য প্রবীর সিংহরায় বলেন, ‘শুধু আপৎকালীন পরিস্থিতি নয়, স্বাভাবিক সময়েও এই পর্যটকদের বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু কোনও দিশা পাওয়া যায় না।’ পর্যটকদের জন্য দেওয়া হেল্পলাইন নম্বর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর করা উচিত বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। এদিকে, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ, বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে কলকাতা হাইকোর্টে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।