সোমনাথ বসু, কলকাতা: চলতি মরশুমে মোহন বাগানের চোখে চোখ রেখে লড়ার হিম্মত দেখাচ্ছে ইস্ট বেঙ্গল। এখনও পর্যন্ত দু’টি ডার্বির একটিতে জিতেছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। অপরটি পালতোলা নৌকা। দুই দলের বাজেটের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। মুড়ি-মিছরিও বলতে পারেন। কিন্তু মাঠে তার প্রভাব সাদা চোখে ধরা পড়ে না। ডুরান্ড কাপ ও আইএফএ শিল্ডের বড় ম্যাচ নিশ্চয়ই পাঠকদের মনে আছে। মোহন বাগানের খেলা মোটেই মন ভরাতে পারেনি। বরং, সীমিত শক্তি নিয়ে পরিকল্পিত ফুটবল উপহার দেওয়ার চেষ্টা ছিল ইস্ট বেঙ্গলের। এর প্রধান কারণ, হোসে মোলিনার দলে ফিটনেসের অভাব সুস্পষ্ট। তাছাড়া গ্রেগ স্টুয়ার্টের পরিবর্ত খুঁজে আনতে পারেনি সবুজ-মেরুন ম্যানেজমেন্ট। দুই উইংয়ে মনবীর ও লিস্টন ডানা মেলতে পারলেই মোহন বাগান উজ্জ্বল। ব্রাজিলিয়ান রবসন এবং অস্ট্রেলিয়ান কামিংস ফিটনেসের ধারেকাছে নেই। তবে হ্যাঁ, মোহন বাগানের আপফ্রন্টে একাই জ্বলজ্বল করছেন জেমি ম্যাকলারেন। শুধুমাত্র তাঁর জন্যই শুক্রবার সন্ধ্যায় ফাতোরদার নেহরু স্টেডিয়ামে মোলিনা-ব্রিগেডকে হাল্কাভাবে নেওয়ার উপায় নেই ইস্ট বেঙ্গলের। বক্সের যে কোনও জায়গা থেকে জাল কাঁপাতে পারেন অজি তারকা। শুধু প্রয়োজন তাঁকে বলের জোগান দেওয়া।
অস্কার ব্রুজোঁর আমলে ইস্ট বেঙ্গল বেশ চনমনে। তবে জ্বলন্ত মশালে এবারও পর্যাপ্ত তেল নেই। দুই উইং ব্যাক নড়বড়ে। আপফ্রন্টে হামিদ ও হিরোশি, দু’জনেই মধ্যম মানের। তবে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে অবশ্যই এগিয়ে লাল-হলুদ ব্রিগেড। রশিদ-সাউল-মিগুয়েলের ত্রিভুজ বেশ কার্যকরী। ছন্দে রয়েছেন ইস্ট বেঙ্গলের গেমমেকার নাওরেম মহেশও। কিন্তু কেউই লিডার নন। মোহন বাগান লিড নিলে তাই সমস্যায় পড়বে ইস্ট বেঙ্গল।
সুপার কাপের শেষ চারে পৌঁছনোর জন্য এই ম্যাচ জিততেই হবে মোলিনা-ব্রিগেডকে। পক্ষান্তরে, ড্র হলে সেমি-ফাইনালে উঠবে অস্কারের দল। তবে এই সমীকরণ মাথায় নিয়ে দল নামালে ভুল করবেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ। গ্রুপের প্রথম দু’টি ম্যাচে যথাক্রমে ডেম্পো এবং চেন্নাইয়ান এফসি’র বিরুদ্ধে ছেলেদের পারফরম্যান্স তিনি কাটাছেঁড়া করেছেন। মর্যাদার ম্যাচের আগের দু’দিনে অস্কার নিশ্চয়ই ফুটবলারদের ভুলত্রুটি শুধরে দিয়েছেন। শুক্রবার তাঁর উচিত ম্যাকলারেনকে জোনাল মার্কিংয়ে রাখা। তবে রাকিপ কতটা লিস্টনকে রুখতে পারবেন তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে ম্যাচের ভাগ্য।
পালের হাওয়া নিজেদের অনুকূলে রাখার জন্য শুক্রবার দুরন্ত পারফরম্যান্স মেলে ধরতে হবে মোহন বাগানের দুই সেন্ট্রাল মিডিও অনিরুদ্ধ থাপা এবং আপুইয়াকে। দু’জনেই খর্বকায়। সৃজনশীল ফুটবল থেকে অনেক দূরে। তাই খেলা তৈরির দায়িত্ব নিতে হবে কামিংস-রবসনকেই। সেট পিস মুভ থেকে গোল করার জন্য আলবার্তো এবং আলড্রেড নিশ্চয়ই তৈরি। তবে শুভাশিস বসু খুব বেশি ওভারল্যাপে উঠলে মোহন বাগান রক্ষণের উপর চাপ বাড়তে বাধ্য। সেক্ষেত্রে দুর্গ রোখার গুরুদায়িত্ব বর্তাবে মিস্টার ডিপেন্ডেবল বিশাল কাইথের উপর।
ফাতোরদার নেহরু স্টেডিয়ামে প্রথম দু’টি ম্যাচ খেলেছে মোহন বাগান। তাই শুক্রবার মাঠ চিনতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় লিস্টনদের। ডার্বির দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মাঠ ভারী হলে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলা কঠিন। দুই দলই চাইবে শুরুতে গোল তুলে নিতে। তবে শুধু বিপক্ষের জাল কাঁপালেই তো আর চলবে না। নিজের গড় আগলাতেও যে হবে শক্ত হাতে। এই দু’টি দিক ব্যালান্স করতে পারলেই জয় নিশ্চিত।
বেবিনকা-ভিন্ডালুর শহরে বড় ম্যাচের উত্তাপ তেমন নেই। তবে জগদ্ধাত্রী পুজোর দশমীতে বাংলার চোখ থাকবে টিভির পর্দায়। যত দূরেই হোক না কেন, এই ম্যাচ যে বাঙালির রক্ত গরম করে তোলে।
নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু
সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিটে। জিওহটস্টার এবং স্টার স্পোর্টসে সরাসরি সম্প্রচার।