নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পেশায় সবজি বিক্রেতা। কিন্তু আদতে তিনি একজন লোকশিল্পী। মাথায় এক ডজন হাঁড়ি চাপিয়ে দিব্যি হাঁটতে পারেন ভিড় রাস্তায়। আর এখন মাথায় ফুটবল নিয়ে বাইক চালাচ্ছেন মাইলের পর মাইল! ৪০ কিমি বেগে বাইক চললেও জলপাইগুড়ি শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশ্বনাথ সেনের মাথা থেকে পড়ছে না ফুটবল। তাঁর এই দক্ষতার তারিফ করছেন আমজনতা। ফুটবল মাথায় বাইক চালিয়ে বছর পঞ্চাশের বিশ্বনাথ যেখানেই যাচ্ছেন, তাঁকে ঘিরে জমছে ভিড়। লোকজন তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার আবদার করছেন। উঠছে সেলফি। কেউ কেউ আবার রিল বানিয়ে পোস্ট করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কিন্তু কেন এভাবে মাথায় ফুটবল নিয়ে জলপাইগুড়িতে মাইলের পর মাইল বাইক চালাচ্ছেন বিশ্বনাথ? আসলে ভোটের ময়দানে প্রচারে নজর কাড়তেই তাঁর এই অভিনব উদ্যোগ। ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের প্রচার করছেন ওই সবজি বিক্রেতা। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের, এমন প্রচারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে ‘বরাত’ দেয়নি। পুরোপুরি নিজের ইচ্ছেতেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর প্রচার করে চলেছেন তিনি।
বিশ্বনাথের কথায়, ‘আমি চাই রাজ্যে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। কারণ, আমার মনে হয়, দিদি বাংলার সাধারণ মানুষের জন্য অনেক ভাবেন। তাঁর সরকারের আমলে বহু গরিব মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আমি নিজেও লোকশিল্পী ভাতা পাই। এটাকে সম্মান মনে করি আমি। সেকারণে মমতার সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের কতটা সুফল হয়েছে, সেটাই প্রচার করছি।’
তবে মাথায় ফুটবল নিয়ে বাইক চালিয়ে নজর কাড়ার পিছনে বিশ্বনাথের আরও একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। সেটি হল, ছেলেমেয়েদের মাঠমুখী করা। তাঁর কথায়, খেলা হবে স্লোগান ভালো লাগে আমার। তাই ওই স্লোগানকে ‘হাতিয়ার’ করেই ভোটের ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পের প্রচার করছি। পাশাপাশি এখনকার ছেলেমেয়েরা সারাক্ষণ মোবাইলে মুখ গুঁজে পড়ে থাকে। মোবাইল ছেড়ে তারা যাতে মাঠে আসে, খেলাধুলো করে, সেই বার্তাও দিচ্ছি।
জীবনে ফুটবলার হওয়ার শখ ছিল বিশ্বনাথের। কিন্তু পারিবারিক সমস্যায় তা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু মাঠ তাঁকে আজও টানে। কোথাও খেলা হচ্ছে শুনলেই হাজির হয়ে যান। মাথায় ফুটবল নিয়ে মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের খেয়ালে নানা কসরত দেখাতে থাকেন। যা নজর কাড়ে দর্শকদের। কখনও আবার কোনো শোভাযাত্রা কিংবা মেলায় আচমকা হাজির হয়ে যান। আলপনা আঁকা ডজন খানেক হাঁড়ি মাথায় নিয়ে নৃত্য প্রদর্শন করে সবাইকে চমকে দেন। তাঁর প্রতিভার কুর্নিশ জানিয়েছেন জলপাইগুড়িবাসী। বিশ্বনাথের কথায়, মাথায় হাঁড়ি নিয়ে নাচ কিংবা ফুটবল মাথায় নিয়ে বাইক চালানো—যাই হোক না কেন, কারো কাছ থেকে কোনো অর্থের জন্য আমি এসব করি না। সবজি বিক্রি করে যেটুকু আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলে যায়। বাকিটা মনের খিদে থেকে করি। আমার দক্ষতা দেখে কেউ প্রশংসা করলে ভালো লাগে, এটুকুই। নিজস্ব চিত্র