নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চেয়ার-টেবিলে বসে নয়, ভুয়ো ভোটার খুঁজতে যেতে হবে বাড়ি বাড়ি। শনিবার দলের বর্ধিত সভায় নেতা-কর্মীদের এমনই কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। শহরের আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তিনি বলেন, কখন দলে কী পরিবর্তন হবে, কোন নেতা কী পদ পাবে, তা দেখে ময়দানে নামব, এমনটা মোটেই বরদাস্ত করা হবে না। দলের স্পষ্ট নির্দেশ, ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার কাজ ভালোভাবে করতে হবে। ভূতুড়ে ভোটার রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখতে হবে। কোনও নেতার বাড়িতে যেন ভোটার তালিকা পড়ে না থাকে। তালিকা যেন প্রতিটি বুথে পৌঁছয়। এ ব্যাপারে দলের অঞ্চল সভাপতি ও বুথ সভাপতিদের সক্রিয় হতে হবে। দলের শাখা সংগঠনের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, মূল দলকে শক্তিশালী করাই শাখা সংগঠনের কাজ। নিজেদের মধ্যে কোনও সমস্যা থাকলে তা দলকে জানাতে হবে। অযথা নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহুয়া গোপ বলেন, যদি কোনও নেতা মনে করেন আমি টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসে থাকব, মানুষ ভোটার তালিকা নিয়ে সমস্যা জানাতে আমার কাছে আসবে, তা চলবে না। সবাইকেই বাড়ি বাড়ি যেতে হবে। বুথ লেভেল অফিসারদের একাংশ (বিএলও) বিজেপির হয়ে কাজ করছেন বলে এদিন অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বিএলও’রা ভুয়ো নাম ঢুকিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
এখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলায় ১২৬ জন ভুয়ো ভোটারের নাম প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকাতেও প্রচুর ভুয়ো ভোটার রয়েছে বলে এদিন সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, জেলাজুড়ে আমাদের কর্মীরা ভুয়ো ভোটার খতিয়ে দেখছেন। তবে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় খুব ভালোভাবে স্ক্রুটিনি করার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকেও দেখতে বলেছি। ভোটার তালিকা অনুযায়ী জেলায় সবচেয়ে বেশি নাম উঠেছে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভায়। ফলে কোথাও কারচুপি হয়নি কে বলতে পারে?
তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান তথা রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, বিন্নাগুড়ি, পানিকৌড়ি, শিকারপুর, মান্তাদারি, সুখানি এলাকায় আমরা বেশকিছু ভুয়ো ভোটার পেয়েছি। দলের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা ধরে যাচাই করছেন। এত ভুয়ো ভোটার লুকিয়ে ছিল, ভেবেই অবাক লাগছে।