নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আজ, সোমবার বাজেট বৈঠক রয়েছে জলপাইগুড়ি পুরসভায়। সূত্রের খবর, গতবারের তুলনায় এবার বাজেটে টাকার পরিমাণ খুব বেশি বাড়ছে না। আগামী আর্থিক বছরের জন্য সাড়ে সাতশো কোটি টাকার আশপাশে বাজেট পেশ হতে চলেছে। তবে সরকারের তরফে বরাদ্দ অর্থের পাশাপাশি পুরসভা কত টাকা নিজস্ব আয়ের টার্গেট নিচ্ছে এবং সেই টাকায় কী কী কাজের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেদিকে নজর রাখছেন শহরবাসী।
সূত্রের খবর, বাজেট বৈঠকে হাজির থাকছেন না জলপাইগুড়ির ২৪নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার অম্লান মুন্সি। বামেদের কাউন্সিলার থাকলেও তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ি পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে প্রথম থেকেই সরব হতে দেখা গিয়েছে অম্লানকে। কিন্তু, তিনি আচমকা বাজেট বৈঠকে কেন গরহাজির থাকছেন, তা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে। যদিও এনিয়ে অম্লানের বক্তব্য, জল্পনার কিছু নেই। ব্যক্তিগত কাজে কলকাতায় এসেছি। সেকারণে পুরসভার বাজেট বৈঠকে থাকতে পারছি না। তবে পুরসভা খুবই সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে চলছে। ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা হওয়ায় বাধ্য হয়ে ছ’বছর পর অর্থ-সাব কমিটির বৈঠক করেছে দিন কয়েক আগে। বাজেটে বর্তমান পুরবোর্ড কোনও নয়া দিশা যে দেখাতে পারবে না, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।
যদিও পুরসভার চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল বলেন, আমরা নিজস্ব আয় বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছি। শহর ও শহরবাসীর সামগ্রিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই এবারের বাজেট করা হয়েছে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ট্যাক্স কালেকশন থেকে নিজস্ব আয় বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়েছে। কর কাঠামোর পুনর্মূল্যায়ন হচ্ছে। মিউটেশন ফি আদায়ে বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। করলা নদী সংস্কার, শহরের বিভিন্ন পার্কের সৌন্দর্যায়ন, পুরসভার যেসব অনুষ্ঠান হল রয়েছে, সেগুলিকে সংস্কার করে ভাড়া দেওয়া, আম্রুত প্রকল্পে পরিস্রুত পানীয় জল প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজ রয়েছে বাজেটে। এরইসঙ্গে থাকছে মহিলাদের স্বশক্তিকরণের লক্ষ্যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠনে জোর, শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ, পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার মতো কাজ। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট থেকে নৈশকালীন জঞ্জাল সাফাই, ডেঙ্গু দমনে বিশেষ অভিযান ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে।