নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের কাজে ঢিলেমি। সোমবার জলপাইগুড়ি স্টেশনে আচমকা পরিদর্শনে এসে এনিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিলেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহারের ডিআরএম কিরেন্দ্র নারা। প্রায় ৩০ কোটি টাকায় জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন আধুনিকীকরণের কাজ হওয়ার কথা। কিন্তু ওই কাজের গতি খুবই শ্লথ বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে অমৃত ভারত প্রকল্পের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেলেও টাউন স্টেশনের কাজে ঢিলেমির অভিযোগ উঠেছে। এমনিতেই স্টেশন বাজার সরানো নিয়ে টানাপোড়েনে দীর্ঘসময় আটকে ছিল কাজ। অবশেষে বাজার সরলেও জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন চত্বর সৌন্দর্যায়নের কাজে এখনও সেভাবে গতি আসেনি বলে অভিযোগ। এনিয়ে এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে দ্রুত কাজ শেষের নির্দেশ দেন ডিআরএম। রেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনেক কাজ এখনও বাকি। দ্রুত যাতে কাজ শেষ হয়, সেব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিন ডিআরএমের কাছে জলপাইগুড়ি নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে কলকাতায় যাওয়ার নতুন ট্রেন সহ একাধিক দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক তথা জলপাইগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক গোবিন্দ রায়ের দাবি, বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন ডিআরএম। গোবিন্দবাবু বলেন, হলদিবাড়ি থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত রাতে নতুন মেল অথবা এক্সপ্রেস চালুর দাবি জানানো হয়েছে। হলদিবাড়ি থেকে কলকাতা সপ্তাহে তিনদিন সুপারফাস্ট ট্রেন চলে। সেটিকে প্রতিদিন চালানোর দাবি জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে হলদিবাড়ি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত দু’টি প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনে দার্জিলিং মেল দাঁড়ানোর সময় একটু বাড়িয়ে যদি এখানে ওই ট্রেনের কমার্শিয়াল স্টপ করা যায়, সেক্ষেত্রে জলপাইগুড়ি থেকে পার্সেল বুকিংয়ের সুবিধা মিলতে পারে বলে জানানো হয়েছে নাগরিক মঞ্চের তরফে। শিল্পতালুক হওয়া সত্ত্বেও জলপাইগুড়ির রানিনগরে কলকাতাগামী কোনও ট্রেন দাঁড়ায় না। ফলে সেখানে ট্রেনের স্টপ দেওয়ার ব্যাপারেও রেল যাতে উদ্যোগী হয়, সে ব্যাপারে ডিআরএমকে জানানো হয়েছে।
জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, স্বামী বিবেকানন্দ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ বহু বরেণ্য মানুষ নেমেছেন। তাঁদের স্মৃতিরক্ষায় ওই স্টেশনে যাতে একটি ফটো গ্যালারি করা হয়, সেব্যাপারে এদিন নাগরিক মঞ্চের তরফে ডিআরএমের কাছে আর্জি রাখা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র।