নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: রোদের তেজে সকাল দশটাতেই রাস্তায় বেরনো যাচ্ছে না। দুপুর হতে না হতেই শুনশান হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। জলের অভাবে মাঠে পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসল। সেচদপ্তরের হিসেব বলছে, উত্তরে তিস্তাপাড়ের জেলা জলপাইগুড়িতে রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতির ৪৯ শতাংশ। গতবছর এদিন পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলায় বৃষ্টি হয়েছিল ,২০৯৯ মিমি। সেখানে এবার এদিন পর্যন্ত জেলায় বৃষ্টি হয়েছে ৯১৩ মিমি। অর্থাৎ, গতবারের তুলনায় তিনভাগের একভাগও বৃষ্টি হয়নি এখনও। আর এতেই চাষিদের মাথায় হাত। মিলছে না সেচের জল। মারাত্মক প্রভাব পড়েছে চা বাগানে। কমে গিয়েছে পাতার উৎপাদন। বৃষ্টির আশায় জেলার বিভিন্ন জায়গায় মিথে ভর করে ব্যাঙের বিয়ে দিচ্ছেন বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে ময়নাগুড়ি, ধুপগুড়িতে ধুমধাম করে ব্যাঙের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুঃসহ গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত জেলাবাসীর।
আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এদিন জলপাইগুড়ির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, গোটা জুলাই মাসে খুব বেশি বৃষ্টি নেই জলপাইগুড়ি জেলায়। সেক্ষেত্রে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছে সেচদপ্তর। জলপাইগুড়ি জেলায় ফি বছর বর্ষার মরশুমে ৩০০০-৩২০০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়। সেখানে এখনও ১ হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বেশি পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেচদপ্তরের উত্তরপূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক। কম সময়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হলে নিচু এলাকাগুলিতে প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন সেচদপ্তরের আধিকারিকরা।
সেচদপ্তরের হিসেব বলছে, শুধু জলপাইগুড়ি নয়, গোটা উত্তরবঙ্গে এখনও পর্যন্ত গড়ে ৫০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। দার্জিলিং জেলায় ৪৭ শতাংশ, আলিপুরদুয়ারে ৫৬ শতাংশ, কোচবিহারে ৫০ শতাংশ, উত্তর দিনাজপুরে ৬০ শতাংশ, মালদহে ৩১ শতাংশ, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৪২ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। এদিন শিলিগুড়িতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮.৪ ডিগ্রি, কোচবিহারে ৩৭.২ ডিগ্রি, আলিপুরদুয়ারে ৩৭ ডিগ্রি, মালদহে ৩৭ ডিগ্রি এবং দার্জিলিংয়ে ২৪.৮ ডিগ্রি।