সংবাদদাতা, পতিরাম: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বাড়ছে গরম। ক্রমশ কমে যাচ্ছে জলস্তর। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শুকিয়েছে নদী ও খাল, বিল। জল পাচ্ছেন না কৃষকরা। এমনকী অনেক বাড়িতেই টিউবওয়েল ও পাম্প কাজ করা বন্ধ হয়েছে। এমন সমস্যার মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। সেকাজে স্কুল পড়ুয়াদের কাঁধেই দায়িত্ব দিল জেলার সমগ্র শিক্ষা মিশন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রতিটি স্কুলে ‘জলবন্ধু’ গ্রুপ খোলার নির্দেশ দিয়েছে মিশন। ওই গ্রুপের সদস্য তথা ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের স্কুলের জলের সমস্যা মেটানো এবং জল সংরক্ষণ করতে উদ্যোগী হবে। এমনকী স্কুলেই জল ব্যাঙ্ক তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের আনা জলের বোতলের অবশিষ্ট ওই ব্যাঙ্কে মজুত রাখা হবে। নিজের পাড়া এবং শহরেও জল নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী হবে ওই ছাত্রছাত্রীরা। এপ্রসঙ্গে বংশীহারি ব্লকের দৌলতপুর হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র অর্ঘ্য দাস বলে, স্কুলে জল সংরক্ষণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। জলের অপচয় রুখতেও প্রচার করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সমগ্র শিক্ষা মিশনের ডিপিও (ডিস্ট্রিক্ট প্রোজেক্ট অফিসার) বিমল কৃষ্ণ গায়েন বলেন, ২২ মার্চ বিশ্ব জল দিবস থেকেই বিভিন্ন স্কুলে জল নিয়ে নানা সচেতনতামূলক প্রচার এবং কর্মসূচি চলেছিল। তা যথেষ্ট ভালোভাবেই তারা পালন করেছে। আমাদের জেলায় জলের সঙ্কট রয়েছে। নানা জায়গায় সমস্যা শুরু হয়েছে। তাই ছাত্রছাত্রীদের এখন থেকেই উদ্যোগ নিতে বলেছি। প্রত্যেকটি স্কুলে ‘জলবন্ধু’ গ্রুপ খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নানা কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক প্রচার করানোর কথা বলা হয়েছে। এবিষয়ে বালুরঘাট ব্লকের রাজুয়া সখী সুন্দরী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার শীল বলেন, জল দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের স্কুলে পড়ুয়াদের নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি হয়েছে। স্কুলের চার পড়ুয়া, একজন শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষককে নিয়ে জলবন্ধু গ্রুপ তৈরি হয়েছে। কীভবে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এবিষয়ে বালুরঘাটের পরিবেশপ্রেমী তথা অযোধ্যা কালীদাসী বিদ্যানিকেতনের শিক্ষক তুহিন শুভ্র মণ্ডলের কথায়, জল সঙ্কটের মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ধারাবাহিক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে সমগ্র শিক্ষা মিশনে আবেদন জানিয়েছিলাম। সব স্কুলেই তা কার্যকর হবে। শিক্ষার্থীদের জলবন্ধু হিসেবে তৈরি করা গেলে সঙ্কট মোকাবিলা সহজ হবে।