Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলঙ্গি নদীর বুকেই তৈরি চাষের জমি, ভরা বর্ষাতেও থাকে না হাঁটুজল

জলঙ্গি নদীর বুকেই তৈরি চাষের জমি, ভরা বর্ষাতেও থাকে না হাঁটুজল
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১৩:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: ভরা বর্ষাতেও হাঁটুজল থাকে না করিমপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া জলঙ্গি নদীতে। শীতকালে নদীর মাঝে তৈরি রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে যানবাহন ও গ্রামবাসী। চোখের সামনে একটু একটু করে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জলঙ্গি নদী। এই নদী বাঁচাতে স্থানীয় এবং জেলা প্রশাসনের আশ্বাস মিলেছে অনেক বার। তৈরি হয়েছে নদী বাঁচাও কমিটি। অথচ বাস্তব বলছে কিছুই হয়নি। নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী মরে যাওয়ার পিছনে ভূতাত্বিক কিছু  কারণ রয়েছে, তেমনই মানুষের অবদানও কম নয়। যে জলঙ্গির উপরে একসময় বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিকাজ নির্ভর করত এখন সেই নদীই হয়ে উঠেছে কৃষি জমি। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কোথাও নদীর বুকেই তৈরি হয়েছে বসত বাড়ি। কোথাও চলছে কৃষিকাজ। অথচ কোনও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনীতির কারবারিরা এই নদী বাঁচাতে নির্বিকার।  করিমপুরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছর ত্রিশেক আগেও জলঙ্গি নদীর এই অবস্থা ছিল না। এই নদীতে তখন সারাবছর জল থাকত। সেচের জল বা মাছ নিয়ে ভাবতে হতো না স্থানীয় কৃষিজীবী কিংবা মৎস্যজীবীদের। বিজয়া দশমীতে করিমপুরে জলঙ্গি নদীতে নৌকা বাইচের কথা আজও মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি। কিন্তু এখন যেখানে যার ক্ষমতা তেমনভাবেই নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। নদীর উপর মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি হচ্ছে। আবার অর্ধ নির্মিত সেতুর নীচে মাটি ফেলে বন্ধ করা হয়েছে নদী। যে দল যখন ক্ষমতায় এসেছে সেই দলের প্রশ্রয়ে নদী দখল করেছে কিছু মানুষ। জলঙ্গি নদী বাঁচাও কমিটির সম্পাদক শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী বলেন, ভূতাত্বিক কিছু কারণে এবং মানুষের অত্যাচারে নদীর আজ এই হাল। 

Advertisement

করিমপুর এখনও পুরসভা হয়নি। ফলে নোংরা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোনও জায়গা না থাকায় এই নদীকেই অনেকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করে। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে পদ্মার খাত ক্রমশ সরে যাওয়ায় বর্ষাকাল ছাড়া শাখা নদীগুলি পদ্মা থেকে জল পায় না। চর মধুবোনায় জলঙ্গির উৎসমুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গোপালপুর ঘাটের উপর দিয়ে রাজ্য সড়ক তৈরির কারণেও জলঙ্গি রুদ্ধ হয়েছে। তাই জলঙ্গির ভরসা বলতে বৃষ্টি, ভৈরবের জল এবং মাটির নীচের জল। প্রতিনিয়ত অত্যাচারের ফলে নদী দূষিত হয়েছে। দেখভালের কেউ নেই। 
অথচ বর্ষার সময় এই নদীই কিন্তু অতিরিক্ত জল বহন করে বন্যার হাত থেকে আমাদের বাঁচায়। এখনও সচেতন না হলে ভবিষ্যতে ফল আরও মারাত্মক হতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ