সংবাদদাতা, করিমপুর: গরম পড়তেই জলের সমস্যা। করিমপুরের মানুষের এখন ভরসা কেনা জল। করিমপুর ১ ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কেচুয়াডাঙা, বেলডাঙা, গান্ধিনা, ফুলবাড়ি গ্রামের মানুষের দাবি, বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। বছর দশেক আগে বারুইপাড়া জল সরবরাহ কেন্দ্র চালু হয়েছিল। এই কেন্দ্রের তিনটি পাম্প ও একটি জলাধার থেকে এলাকার মানুষকে জল পৌঁছে দিতে তখন প্রত্যেক পাড়ায় কয়েকটি করে ট্যাপকল বসানো হয়েছিল। প্রথম দিকে সারাদিনে তিনবার জল পাওয়া যেত। সেই জলই সকলে পান করতেন। পরে কখনও জলাধারে তুলে আবার কখনও সরাসরি পাম্প থেকে জল দেওয়া হতো। কিন্তু ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে সেই জল সরবরাহ বন্ধ করে এলাকায় জল জীবন মিশন প্রকল্পের কাজ চালু হয়েছে। দীর্ঘদিন জল সরবরাহ বন্ধ থাকার পরে এখন শিকারপুরের কিছু এলাকায় জল পৌঁছলেও পঞ্চায়েতের অনেক গ্রামের মানুষ এখনও জল পান না। শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা স্থানীয় বিজেপি নেতা জীবানন্দ সাহা বলেন, জল জীবন মিশন প্রকল্পে প্রতি বাড়ি জল পৌঁছনোর জন্য ২০২০-২১ সালে সরকার অনুমোদিত প্রায় আটানব্বই লক্ষ টাকায় তখন বিভিন্ন গ্রামে ট্যাপকল বসানো হয়েছিল। সকলে সেই জল পেত। তারপর আবার নতুন করে প্রায় সোয়া পনেরো কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এখন কয়েকটি গ্রামে জল গেলেও অনেক গ্রামেই জল পৌঁছয়নি। কেচুয়াডাঙার বাসিন্দা জয়ন্ত ঘোষ বলেন, আগে প্রতি বাড়িতে না হলেও প্রতি গ্রামে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ট্যাপকল ছিল। সেখান থেকেই গ্রামের মানুষ পানীয় জল নিতেন। নতুন করে জল জীবন মিশন প্রকল্পে প্রত্যেকের বাড়িতে জল দেওয়ার জন্য আড়াই বছর আগে কাজ শুরু হয়েছে। তখন থেকে আগের জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন শিকারপুরের কিছু এলাকায় জল পৌঁছলেও কেচুয়াডাঙা, বেলডাঙা, গান্ধিনা, ফুলবাড়ি সহ বহু গ্রামের মানুষের জলকষ্ট রয়েছে। তখন থেকে টিউবয়েল এবং কেনা জলের ভরসায় থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এখন ভূগর্ভস্থ জলস্তর কমে যাওয়ায় টিউবয়েলেও জল উঠছে না। শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান অনুপ বিশ্বাস বলেন, এলাকার বারুইপাড়া, দহখোলায় পাইপ সংযোগের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কেচুয়াডাঙা, জোতদর্পনারায়ণপুর, গান্ধিনা, ফুলবাড়ি গ্রামে এখনও কাজ হয়নি। এই প্রকল্পের কাজে দীর্ঘ সময়ের জন্য মানুষ জলের কষ্টে ভুগছেন। এ ব্যাপারে আমি ঠিকাদার ও প্রশাসনের সব স্তরে বারবার জানিয়েছি এবং এই কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদার ও প্রশাসনকে বলেছি। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, কিছু সমস্যার জন্য কাজে দেরি হলেও খুব শীঘ্র এই কাজ শেষ করা হবে।



