নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একদিকে সিকিম পাহাড় থেকে তিস্তা হয়ে নেমে আসা জল। অন্যদিকে ভুটান পাহাড় থেকে জলঢাকা সহ ৫৬টি নদী দিয়ে নেমে আসা বৃষ্টির জল। এই দুই কারণে উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি। এমন ঘটনা শুধু এই বছরের নয়! বছরের পর বছর বন্যার ধ্বংসাত্মক রূপ দেখছেন উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশের বাসিন্দারা। বীরপাড়ার গ্যারগান্ডা চা বাগান, ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী জয়গাঁ থেকে শুরু করে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন আলিপুরদুয়ারের শিশামারা এলাকা বিপদের মুখে। একরের পর একর জমি চলে যাচ্ছে শিশামারা নদীর গ্রাসে। রাজ্যের একার পক্ষে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সিকিম এবং ভুটানের সঙ্গে সমন্বয় স্থাপন না হলে উত্তরবঙ্গের মানুষকে বন্যার হাত রক্ষা করা কার্যত অসম্ভব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে এমনটাই জানতে পেরেছেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। এনিয়ে তিনি সরাসরি কথা বলেন সেখানকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে। শুক্রবার কলকাতায় ফিরে বিধাননগরের জলসম্পদ ভবনে দপ্তরের পদস্থ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শীঘ্রই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেবেন বলে জানা গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভুটানের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে পড়ে। তাই এক্ষেত্রে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন গঠনের দাবিও উঠে এসেছে। একইভাবে সিকিমের সঙ্গেও আলোচনা প্রয়োজন। তাই এই দু’টি ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির হস্তক্ষেপ চাওয়ার কথাও ভাবতে পারে রাজ্য। এদিকে, কালিম্পংয়ে ক্ষুদ্র সেচ দপ্তরের অফিস তৈরির জন্য জমি দিল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ। ফলে এই জেলায় সেচ সংক্রান্ত কাজে নজরদারি আরও ভালো হবে বলে জানিয়েছেন মানসবাবু।



