নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: বিট্টু খুনের ঘটনায় পাকড়াও আরও এক অভিযুক্ত। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম আসাদ আলি। সে মূল অভিযুক্ত জাহেদুর রহমানের ছায়াসঙ্গী। বিট্টু খেত্রীকে খুনে আসাদই জাহেদুরকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করেছে বলে পুলিসের সন্দেহ। পেশায় রাজমিস্ত্রী হলেও সে এই ঘটনায় জাহেদুরের অনুচর হিসেবে কাজ করে গিয়েছে। পুলিসের বক্তব্য, দীর্ঘসময় জিজ্ঞাসাবাদের পর বিট্টু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রায়গঞ্জের পুলিস সুপার সানা আখতার বলেন, দক্ষিণ ধোঁয়ারইয়ের খুনের ঘটনায় আসাদ আলি নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় এই নিয়ে দু’জন গ্রেপ্তার হল। পুলিসের কাছে দু’জনই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে। পুলিস এব্যাপারে আরও বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।
ধৃত আসাদকে মঙ্গলবার দুপুরে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে হাজির করে হেমতাবাদ থানার পুলিস। সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার জানিয়েছেন, আদালত ধৃতকে পাঁচ দিনের পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছে।
পুলিস সূত্রে খবর, সোমবার গ্রেপ্তার হওয়া জাহেদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েই আসাদ আলির খোঁজ পায় পুলিস। তারপরই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পেশায় রাজমিস্ত্রী হলেও আসাদ সর্বক্ষণ জাহেদুরের সঙ্গেই থাকত। জাহেদুরের হয়ে নানা ধরনের কাজ করত। এদিকে একের পর এক গ্রেপ্তারিতে ধীরে ধীরে বিট্টু খেত্রীর দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধারকাণ্ডের জট খুলতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন বিট্টুর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় থাকলেও সেব্যাপারে প্রাথমিকভাবে কিছু অনুমানভিত্তিক তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে শ্বাসরোধ করে প্রথমে বিট্টুকে খুন করা হয়। পরে তাঁর স্কুটার সমেত দক্ষিণ ধোয়ারইয়ের ওই এলাকায় খড়ের গাদায় এনে ফেলা হয়। ওই স্কুটারের পেট্রলকে কাজে লাগিয়েই আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় খড়ের গাদায়। যদিও এব্যাপারেও আরও কিছু নতুন তথ্য সংযোজিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এখনও ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক টেস্ট বাকি আছে। পুলিসি প্রহরায় ঢাকা রয়েছে পুড়ে যাওয়া সেই খড়ের স্তুপ। আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই ঘটনাস্থল আসবেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। পর্যবেক্ষণ করবেন, নমুনা সংগ্রহ করবেন। তারপরই এব্যাপারেও আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে পুলিস সূত্রে আরও খবর, জাহেদুর ও আসাদেরই শুধু যোগ আছে তা নয়। এরসঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত। যাদের খুঁজতে এখনও পুলিসি তল্লাশি জারি রয়েছে। ধৃত আসাদ আলি। - নিজস্ব চিত্র।