Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জগৎবল্লভপুর: কানা দামোদরে পাকা সেতুর কাজ বন্ধ, ঝুঁকি নিয়েই কাঠের সাঁকো পারপার গ্রামবাসীদের

কানা দামোদরের উপর ঢালাই সেতুর কাজ এক বছর ধরে বন্ধ। ফলে এখনও বাঁশ ও কাঠের সাঁকোই ভরসা জগৎবল্লভপুরের খাঁড়াপাড়া ও আশপাশের প্রায় বারো হাজার বাসিন্দার।

জগৎবল্লভপুর: কানা দামোদরে পাকা সেতুর কাজ বন্ধ, ঝুঁকি  নিয়েই কাঠের সাঁকো পারপার গ্রামবাসীদের
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কানা দামোদরের উপর ঢালাই সেতুর কাজ এক বছর ধরে বন্ধ। ফলে এখনও বাঁশ ও কাঠের সাঁকোই ভরসা জগৎবল্লভপুরের খাঁড়াপাড়া ও আশপাশের প্রায় বারো হাজার বাসিন্দার। ওই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে স্কুল পড়ুয়া থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। যে কোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Advertisement

এক বছরেরও বেশি সময় আগে জগৎবল্লভপুরের কানা দামোদরের উপর খাঁড়াপাড়া ও নাইকুলিতে দু’টি সেতু নির্মাণের কাজ একসঙ্গে শুরু হয়েছিল। কিন্তু যেখানে নাইকুলিতে সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, সেখানে খাঁড়াপাড়ায় সেতুর কাজ পিলারের মধ্যেই আটকে রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণ সংস্থা কাজ ফেলে রেখেছে দীর্ঘদিন। বর্তমানে খাঁড়াপাড়ায় যে কাঠের সাঁকো রয়েছে, তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করতে হয়। সাইকেল বা বাইক নিয়ে পার হতে গেলে সাঁকোটি নড়ে। সাঁকোর একদিকে গোহালপোতা গ্রামে রয়েছে জগৎবল্লভপুর গ্রামীণ হাসপাতাল। উল্টো পাড় থেকে জগৎবল্লভপুর-১ নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের হাসপাতালে আসতে হলে এই সাঁকোই একমাত্র ভরসা। বিকল্প রাস্তা দিয়ে আসতে হলে ঘুরতে হয় প্রায় পাঁচ কিমি পথ। সময়ও লেগে যায় অনেকটা। খাঁড়াপাড়ায় পাকা সেতুর কাজ দ্রুত চালু হলে জগৎবল্লভপুর ১ ও ২ পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই পাতিহাল স্টেশনে যাওয়া নিত্যযাত্রীদেরও উপকার হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা দেবোত্তর সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক বছর ধরে সেতুর কাজ বন্ধ। সাঁকোর অবস্থা খুব খারাপ। যে কোনও সময়ে ভেঙে পড়তে পারে। কবে নয়া সেতুর কাজ শেষ হবে, কেউ জানে না।’ জগৎবল্লভপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আসাদুল্লা কাজি বলেন, ‘যে সংস্থা সেতুর কাজের দায়িত্ব পেয়েছে, তারা ঠিকভাবে কাজ করছে না। যোগাযোগ করা হলেও তারা স্পষ্ট কিছু জানাচ্ছে না।’ অন্যদিকে, কাজের বরাতপ্রাপ্ত সংস্থার প্রকল্প আধিকারিকের দাবি, ‘নির্ধারিত সময়েই কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরিকাঠামোগত কিছু সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে হয়। নদীর দু’পাশে মূল পিলার তৈরি হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই বাকি কাজ শুরু হবে।’ সব মিলিয়ে অভিযোগ-প্রতিবাদের মধ্যেই এখন জগৎবল্লভপুরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে ঝুঁকির সঙ্গী সেই নড়বড়ে সাঁকোই।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ