সংবাদদাতা, লালবাগ: মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম বিগ বাজেটের কালীপুজো আয়োজন করে জিয়াগঞ্জের ভট্টপাড়া ঘোষপাড়া জাগরণী সংঘ। ভাগীরথীর পূর্বপাড়ের প্রাচীন জনপদ জিয়াগঞ্জে একসময় ঘোষাল পরিবারের হাত ধরে এই কালীপুজো শুরু হয়েছিল। তবে গত চার দশকের বেশি সময় ধরে জাগরণী সংঘের পরিচালনায় পুজো হয়ে আসছে। এই ক্লাব দায়িত্ব নেওয়ার পর পুজোর জৌলুস ও জাঁকজমক অনেকটাই বেড়েছে। পুজোর খ্যাতি ভিন জেলাতেও ছড়িয়েছে।
২০১০সাল অবধি উদ্যোক্তারা পুজো আয়োজনে সাবেকিয়ানায় ভরসা রেখেছিলেন। ২০১১সাল থেকে থিমপুজো শুরু হয়। প্রথমবছর থেকেই মণ্ডপ, প্রতিমার শিল্পভাবনায় জাগরণী সংঘ জিয়াগঞ্জের পাশাপাশি পুরো জেলাকে চমক দিয়েছে। গতবছর পুজোর থিম ছিল গুজরাটের পোরবন্দরের শ্রীহরি মন্দির। এবছরের থিম গোয়ার বিড়লা রাধাকৃষ্ণ মন্দির। ওই মন্দিরের আদলে সাড়ে তিনহাজার বর্গফুট জমিতে প্রায় ৭০ফুট উঁচু মণ্ডপ গড়ে তোলা হয়েছে। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা ও আধুনিক প্রযুক্তির আলোকসজ্জা থাকছে। মণ্ডপের দু’পাশে প্রায় এক কিমি রাস্তা আলোকমালায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় স্বামী জপপ্রিয়ানন্দ মহারাজ পুজোর উদ্বোধন করবেন। পুজো উপলক্ষ্যে ২১-২৪অক্টোবর চারদিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। ২৬অক্টোবর শোভাযাত্রা সহকারে স্থানীয় ভট্টপাড়া বটতলা ঘাটে ভাগীরথী নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে। ক্লাবের সভাপতি নৌশাদ হোসেন বলেন, কালীপুজোয় জাগরণী সংঘের থিম কয়েকবছর ধরে জেলার মানুষের চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবছর দর্শনার্থীদের সামনে নতুন শিল্পভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। উদ্বোধনের সন্ধ্যা থেকেই মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ঢল নামতে শুরু করে। এবারও কয়েক লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছি। ক্লাবের সম্পাদক অসিত সাহা বলেন, এই পুজো ঘিরে সম্প্রীতির ছবি দেখা যায়।