Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন, প্রাণপ্রতিষ্ঠার অপেক্ষায় দীঘা, স্বপ্নপূরণ মমতার

আজ জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন, প্রাণপ্রতিষ্ঠার অপেক্ষায় দীঘা, স্বপ্নপূরণ মমতার
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দেবাঞ্জন দাস, দীঘা: বিকেল ৪টে বাজতে তখনও ১০ মিনিট বাকি। প্রভু জগন্নাথদেবের নতুন আলয় দীঘার সমুদ্রতটে ক্ষণটা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে গেল। মন্দির চূড়ার শ্রীচক্রে উড়তে শুরু করল ‘পতিত পাবন বানা’ (পবিত্র ধ্বজা)। রোদের মধ্যে এতক্ষণ করজোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বাকিরা। ধ্বজা উড়তেই দু’হাত তুলে মমতা বলে উঠলেন, ‘জয় জগন্নাথ’। সমস্বরে সাড়া দিল মন্দির প্রাঙ্গণ। চোখ বুজে প্রণাম সারলেন, বাধা-বিপত্তি, মামলা-মোকদ্দমা সত্ত্বেও ‘বাংলায় এলেন জগতের নাথ’... স্বপ্নপূরণ হল মমতার। এখন অধীর প্রতীক্ষা, সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। আজ বুধবারই যে দ্বারোদ্ঘাটন ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে মহাপ্রভুর। অপেক্ষায় সৈকতনগরী দীঘা তো বটেই, গোটা বাংলাও। 

Advertisement

মন্দির প্রাঙ্গণের প্রশস্ত দুয়ার পেরিয়ে মঙ্গলবার সপার্ষদ মমতা যখন চত্বরে প্রবেশ করলেন, ঘড়িতে বিকেল সোয়া ৩টে। চটি খুলে, গঙ্গাজলে হাত ধুয়ে নিলেন। পুরীর রাজেশ দয়িতাপতি, আর ইসকনের পুরোহিত এগিয়ে এসে নিয়ে গেলেন মন্দির লাগোয়া সেই বেদির কাছে। সেখানেই যে জগতের নাথের নিমকাঠের বিগ্রহ। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ ও আচারের মধ্য দিয়ে শুরু হল ‘মঙ্গলপূজন’। ব্রাহ্মণ কন্যা মমতা বিগ্রহে ফুল চড়ালেন, দুধ দিয়ে স্নান করালেন, নারকেল ফাটিয়ে নিবেদন করলেন অর্ঘ্য। পুজো হল সেই ধ্বজা পতিত পাবন বানার। চোল বংশধর ছাড়া কারও অধিকার নেই জগন্নাথ মন্দিরের মূল অংশ ‘ভীমানা’য় ধ্বজা স্থাপনের। পুরী থেকে এসেছিলেন তিনজন ধ্বজাস্থাপক। তাঁদের মধ্যে দু’জন, অজয় নায়েক ও বিভূতি দাসের হাতে ধ্বজা তুলে দেন মমতা। তরতর করে চূড়ায় উঠলেন দু’জন। শ্রীচক্রে পতিত পাবন বানা স্থাপনের কাজটি শেষ করলেন অজয়। শিহরিত মুখ্যমন্ত্রী সহ উপস্থিত সবাই। প্রত্যেক ধ্বজাস্থাপকের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে বিমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 
প্রাঙ্গণের অন্য প্রান্তে হোমকুণ্ডে তখন মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে। নরসিংহ মন্ত্র, আর রাধামাধবের স্ত্রোত্র পাঠে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশ। খড় এবং হোগলার ছাউনি দেওয়া হোমকুণ্ডের বিপরীতে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে গিয়ে বসলেন মমতা। আসন ছেড়ে প্রত্যেকের কাছে গিয়ে খোঁজ নিলেন। টলিউড, বলিউড, বণিকসভা, শিল্পপতি, মন্ত্রী, আমন্ত্রিত  সাংসদ-বিধায়ক, কে নেই! বিকেল সোয়া ৪টে। এল সেই পরমলগ্ন, যজ্ঞকুণ্ডে পুণ্যাহুতির মাহেন্দ্রক্ষণ। পুরোহিতদের আহ্বানে হোমকুণ্ডে গিয়ে তাতে অংশ নিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আম আর বেলকাঠের আগুনে ঘৃতাহুতি। দাউ দাউ করে জ্বলছে পবিত্র অনল। মন্ত্রোচ্চারণ এবার সিংহগর্জনে, করজোড়ে প্রণাম, কখনও ঘি ঢেলে, কখন ফুল-বেলপাতা নিবেদন করে যেন আরও একবার অগ্নিস্নানে শুচি হলেন বাংলার অগ্নিকন্যা। দৃশ্যত তৃপ্ত লাগছিল তাঁকে।
আজ, বুধবার জগন্নাথ দেবের নব আলয়ের দ্বারোদঘাটন পর্বের আমন্ত্রণ থেকে রাম, বাম, কংগ্রেস, এসইউসি বাদ যাননি কেউই। অভিনেতা দেব, নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়, গায়ক নচিকেতা-রূপঙ্কর, গায়িকা শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এসে গিয়েছেন অনেকেই। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের আমন্ত্রণ পৌঁছেছে বিজেপির সুকান্ত মজুমদারের কাছে। আমন্ত্রিত সিপিএমের বিমান বসু, রবীন দেব, কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্য, এসইউসির তরুণ মণ্ডল। আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিশেষভাবে আমন্ত্রিত বিজেপি নেতা সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষ। আজ উপস্থিত থাকতে পারেন দিলীপবাবু, জল্পনা তুঙ্গে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ