Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীঘায় চালু জগন্নাথ মন্দির পুলিস ফাঁড়ি

দীঘায় চালু জগন্নাথ মন্দির পুলিস ফাঁড়ি
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল দীঘা জগন্নাথ মন্দির পুলিস আউটপোস্ট(ফাঁড়ি)। একসঙ্গে ১৯জন পুলিস অফিসার ও কর্মীকে ওই ফাঁড়িতে পোস্টিং দিলেন পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য। রবিবার এক নির্দেশিকা জারি করে পাঁচজন অফিসার ও ১৪জন পুলিস কনস্টেবলকে ওই ফাঁড়িতে পাঠানো হয়েছে। আগেই হলদিয়ার ভবানীপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর দিলীপ চক্রবর্তীকে ওই ফাঁড়ির ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ৪মে এক নির্দেশিকা অনুযায়ী ১৯জন পুলিস অফিসার ও কর্মীর পোস্টিং হল জগন্নাথ মন্দির পুলিস ফাঁড়িতে।

Advertisement

পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, জগন্নাথ মন্দির পুলিস ফাঁড়িতে ২০জন পুলিস অফিসার ও কর্মী থাকছেন।
জানা গিয়েছে, তমলুক হেড কোয়ার্টারে রিজার্ভে থাকা চারজন অফিসার ও ১৫জন কনস্টেবলকে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ভূপতিনগর থানা থেকে একজন এএসআইকে ওই ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা ও মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন ওই পুলিস অফিসার ও কর্মীরা। মন্দির সংলগ্ন জেলা পরিষদের নির্মীয়মাণ গেস্ট হাউস অধিগ্রহণ করে তাকে সুন্দরভাবে সাজিয়েছে হিডকো। ওই ভবনেই জগন্নাথ মন্দির পুলিস ফাঁড়ি করা হয়েছে। এছাড়াও, একই ভবনে ট্রাস্টের অফিস, অস্থায়ী হেল্‌থ ক্যাম্প, দমকল প্রভৃতি থাকছে।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জগন্নাথ প্রভুর নব আলয়ে উৎসাহী পুণ্যার্থীদের ভিড় লেগেই থাকছে। নতুন মন্দিরটি প্রায় ২০একর জায়গাজুড়ে রয়েছে। গোটা এলাকায় নজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় বাহিনী নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাতটি থানা থেকে ২২৫জন সিভিক ভলান্টিয়ার পাঠানো হয়েছে। জেলার ২৮টি থানা থেকে একজন করে লেডি কনস্টেবল গিয়েছে দীঘায়। পুরুলিয়ায় অবস্থিত রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন থেকে ৫০জন নিরাপত্তারক্ষী দীঘায় পাঠানো হয়েছে। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা, মন্দিরের নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষীর প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনের পর থেকেই প্রতিদিন মন্দির দেখার জন্য ৬নম্বর গেটের সামনে বিরাট লাইন পড়ছে। সোমবারও ট্রেনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক স্টেশনের টিকিট বুকিং এজেন্ট ভরতচন্দ্র দাস বলেন, সকালে দীঘাগামী ট্রেন ধরার জন্য সাড়ে ছ’শো টিকিট বিক্রি হয়। প্রায় ৫০জন ট্রেনে উঠতে পারেননি। সিংহভাগ যাত্রীর গন্তব্যস্থল ছিল দীঘার জগন্নাথ মন্দির।
দীঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে বিজেপি নেতাদের তোলা প্রশ্নের কড়া জবাব দিয়েছেন কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতি তথা দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাধারমণ দাস। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকজন ধাম ইস্যুতে অযথা বিতর্ক তৈরি করছেন। আমাদের শাস্ত্র বলছে, যেখানে ভগবান বাস করেন, তাকে ধাম বলা যায়। যেখানে ভগবানের মন্দির রয়েছে এবং ভক্ত সমাগম হয় সেটি ধাম। সনাতন ধর্মে চারটি প্রধান ধাম হল, বদ্রীনাথ, পুরী জগন্নাথ মন্দির, রামেশ্বরম ও দ্বারকা। কিন্তু, এর বাইরে অন্য তীর্থস্থানকেও ধাম বলা হয়। যেমন, বৃন্দাবন ধাম, শ্রীধাম মায়াপুর, নবদ্বীপ ধাম প্রভৃতি। দীঘায় জগন্নাথ প্রভুর প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। ভগবান এখানে বিরাজ করছেন। তাহলে জগন্নাথ ধাম বলতে অসুবিধা কোথায়? যাঁরা এর বিরোধিতা করছেন, তাঁদের ভগবানের উপর আস্থা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ