নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দীঘায় জগন্নাথদেবের মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মতো উত্তর ২৪ পরগনাতেও মন্দির উদ্বোধনের মুহূর্তকে সরাসরি মানুষের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল। তবে, একটু ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে হাবড়া। পুরসভার ২৪টি ওয়ার্ডেই পুজো হবে জগন্নাথদেবের। ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। পুরসভার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও মূর্তি পুজোর পাশাপাশি বিশেষ যজ্ঞেরও আয়োজন করা হয়েছে। পুজোর পর সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিলি করা হবে।
হাবড়া জুড়ে এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পূর্ব পরিকল্পনামাফিক হাবড়ার শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দারকে দেওয়া হয়েছে মূর্তি তৈরির দায়িত্ব। সপ্তাহখানেক সময় নিয়ে তিনি কাঠ দিয়ে তৈরি করেছেন এই মূর্তি। জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের মূর্তির উচ্চতা ৪ ফুট ও চওড়া ২ ফুট। অবিকল পুরীর মন্দিরের মূর্তির আদলে তৈরি করা হয়েছে এই মূর্তিগুলি। শিল্পী ইন্দ্রজিৎ বলেন, এই ধরনের ভাবনার কথা সপ্তাহখানেক আগে আমাকে বলা হয়। এখন ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। আলাদা আলাদা করে মূর্তিগুলি প্লাইউড দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এই মূর্তিতেই পুজো হবে। বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামেও আমরা জগন্নাথদেবের পুজো করব। খিচুড়ি, লাবড়া ও মিষ্টি বিলি করা হবে। গোটা বিধানসভা এলাকায় ধুমধাম করে আমরা এই দু’টি দিন পালন করব। পাশাপাশি থাকবে দীঘা থেকে সরাসরি সম্প্রচার। এখানে পুজোর পর মূর্তি বাড়ি নিয়ে যাবেন আমাদের দলের কর্মীরা। পরবর্তীকালে বাড়িতেই হবে পুজো।
তৃণমূল নেতৃত্বের নির্দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন হচ্ছে মধ্যমগ্রামেও। প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ যজ্ঞের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুজোয় অংশগ্রহণ করবেন বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। বিতরণ করা হবে প্রসাদ। মধ্যমগ্রাম চৌমাথায় কেন্দ্রীয়ভাবে দীঘার অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের চিন্তাভাবনা চলছে। মন্ত্রী রথীন ঘোষ বলেন, আমাদের যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমরা সেই মতো পালন করছি। অশোকনগর পুরসভার বিভিন্ন এলাকাতেও দেখানো হবে জগন্নাথদেবের মন্দির উদ্বোধনের সরাসরি সম্প্রচার। কেন্দ্রীয়ভাবে কচুয়া মোড়, গোলবাজার ও কল্যাণগড় বাজারে হবে অনুষ্ঠান। থাকছে বিশেষ পুজোপাঠ। বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী গোটা বাংলার মানুষকে নতুন জিনিস উপহার দিচ্ছেন। অশোকনগরের মানুষ তার সাক্ষী থাকবেন। বারাসত থেকে বসিরহাট, বনগাঁতেও লাইভ সম্প্রচার ও পুজোপাঠের আয়োজন করা হয়েছে দলীয়ভাবে।