নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সকাল থেকেই সাজো-সাজাও রব ছিল। অনন্ত তৎপরতায় ব্যস্ত ছিল রিষড়া। বিকেল গড়াতেই শহর ছাপিয়ে নামল ভিড়। তখনও শতাধিক সাজানো গোছানো, মনোরম শোভাযাত্রার গাড়ির সারি পথে নামেনি। কিন্তু রেল স্টেশন থেকে ফেরিঘাটে উপচে পড়েছে ভিড়। হুগলিতে উৎসব মরশুমের শেষপর্বে এসে জগদ্ধাত্রীর ভাসানের শোভাযাত্রাকে ঘিরে ভিড়ের এমনই দাপট দেখা গিয়েছে রিষড়ায়। চন্দননগরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে শুরু করা শোভাযাত্রা পূর্বসূরীকে কতটা টেক্কা দিতে পারল, তা ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু নিখাদ বিনোদনের সুযোগ এবং তাকে জনপ্রিয় করার প্রশ্নে রিষড়াকে গুরুত্ব দিতেই হবে। অন্তত মঙ্গলবার রাতে ভাসানের শোভাযাত্রার জমাট ভিড় সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে।
রিষড়া কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সভাপতি তথা রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয়সাগর মিশ্র বলেন, এদিন ভাসানপর্ব সুষ্ঠুভাবে মেটানোর জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ করা হয়েছিল। শোভাযাত্রায় যে সমস্ত পুজো কমিটি ছিল না, তারা সকালের থেকেই ভাসান দিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি পুলিশ, প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করেছে। পুজোপর্বের পাশাপাশি ভাসানের শোভাযাত্রায় তীব্র ভিড়ের দাপট আমাদের উৎসাহিত করেছে। মানুষকে আকর্ষণের ক্ষেত্রে রিষড়া নতুন দিগন্ত খুলেছে। রিষড়ার জগদ্ধাত্রী পুজো উদ্যোক্তা অসিতাভ গঙ্গোপাধ্যায় একথা জানিয়ে বলেন, সন্দেহ নেই পুজোর আড়ম্বর বহুগুণ বেড়েছে এবং ভিড়ের দাপটও বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে রিষড়ার জগদ্ধাত্রী পুজো জেলা ও জেলার বাইরের দর্শকমহলে নতুন অভিঘাত তৈরি করেছে। আমরা আপ্লুত। আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়ছে। চুঁচুড়া থেকে ভাসানের শোভাযাত্রা দেখতে এসেছিলেন হেমন্ত শর্মা, চণ্ডীতলা থেকে এসেছিলেন প্রবীর ঘোষ। দু’জনেই মুগ্ধ চোখে দেখেন রাতের আকাশে বর্ণময় আলোকসজ্জার বাহার। ব্যান্ডের সুমধুর সঙ্গীত। তাঁরা বলেন, রিষড়ার শোভাযাত্রা চন্দননগর থেকে কিছুটা ভিন্ন। কিন্তু আনন্দের উৎসবের পরিসর তৈরি করতে রিষড়ার ভাসান শোভাযাত্রাকে অস্বীকার করা যাবে না। সেই আকর্ষণেই এসেছিলাম। ভালো লেগেছে।
মঙ্গলবার সকালেই নিরঞ্জনপর্ব শুরু হয়েছিল রিষড়ায়। শোভাযাত্রার ৩৩টি বারোয়ারি বাদে সকলেই শহরের দু’টি ঘাটে ভাসান দিতে হাজির হয়েছিল। সেই ভাসানকে ঘিরে একপ্রস্থ আবেগে ভেসেছে শহর। আর মঙ্গলবার রাতে হাজির করেছিল এক অনবদ্য শোভাযাত্রা। রাতের আকাশ চিরে যখন আলোর রেখা উঠতে শুরু করেছে, সার দিয়ে আলোর স্রোত আসতে শুরু করেছে, গর্জন করেছে রিষড়া। সন্ধ্যা গড়ানোর পরেই যে বিপুল গর্জন শুরু হয়েছিল, গভীর রাত পর্যন্ত তাতে ছেদ পড়েনি। একের পর এক শোভাযাত্রা নিয়ে পুজোর উদ্যোক্তারা এসেছেন, আর উল্লাসের স্বর চওড়া হয়েছে। মুগ্ধতার আবেশ বেড়েছে লাফিয়ে। স্থির হয়ে ভিড় অপেক্ষা করেছে, ব্যাকুল চোখে তাকিয়ে থেকেছে নতুনের স্বাদ নিতে। রাত গড়িয়েছে নিজের নিয়মে। কিন্তু মন্ত্রমুগ্ধের মতো ভিড় জমাট বেঁধে থেকে গিয়েছে রিষড়ার শোভাযাত্রার পথজুড়ে। নিজস্ব চিত্র